ফেনীর নুসরাত হত্যা মামলার আপিলের রায় সোমবার
ঢাকা প্রেস প্রতিবেদক
ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদন (ডেথ রেফারেন্স), আসামিদের আপিল ও জেল আপিলের শুনানি শেষ হয়েছে। উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আগামী সোমবার রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেছেন হাইকোর্ট।
বৃহস্পতিবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ দিন ধার্য করেন।
আদালতে আসামিদের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির। গত সপ্তাহে এ মামলার ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও জেল আপিলের শুনানি শুরু হয়।
২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদ মামলার রায়ে ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন। একই সঙ্গে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানাও করা হয়। পরে ২৯ অক্টোবর আসামিদের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য মামলার নথিপত্র হাইকোর্টে পাঠানো হয়। পাশাপাশি আসামিরা জেল আপিল ও ফৌজদারি আপিল করেন।
মামলাটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানির জন্য পেপারবুক প্রস্তুত করা হয়। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে প্রধান বিচারপতির কাছে উপস্থাপন করা হলে তিনি শুনানির জন্য হাইকোর্টের এই বেঞ্চ নির্ধারণ করেন।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনা
২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদদৌলার বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে মামলা করেন নুসরাতের মা শিরীন আখতার। পরে পুলিশ অধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করে।
অধ্যক্ষের গ্রেপ্তারের পর তার অনুসারীরা তাকে কারাগার থেকে মুক্ত করার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করে। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ৩ এপ্রিল কারাগারে গিয়ে কয়েকজন আসামি অধ্যক্ষের সঙ্গে পরামর্শ করেন। পরদিন মাদ্রাসার ছাত্রাবাসে নুসরাতকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল আলিম পরীক্ষা দিতে মাদ্রাসায় গেলে নুসরাতকে কৌশলে সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার গায়ে আগুন ধরিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়।
গুরুতর দগ্ধ নুসরাতকে প্রথমে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে ফেনী জেনারেল হাসপাতাল হয়ে তাকে ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের তৎকালীন বার্ন ইউনিটে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল নুসরাত মারা যান।
এ ঘটনায় ৮ এপ্রিল নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান সোনাগাজী থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার বিচার শেষে ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন নিম্ন আদালত। এখন সেই রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের সিদ্ধান্ত জানাবেন হাইকোর্ট।
সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির (সম্পাদক) | প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার (প্রকাশক)
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০৬, লেভেল #০৯, ইস্টার্ন আরজু , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ৬১, বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬