|
প্রিন্টের সময়কালঃ ১৩ মে ২০২৬ ০৩:৩৬ অপরাহ্ণ     |     প্রকাশকালঃ ১৩ মে ২০২৬ ০২:০৯ অপরাহ্ণ

ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড়!


ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড়!


মে মাসের শেষ দিকে বঙ্গোপসাগরে একটি ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়ে বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত হানতে পারে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে চলতি মাসজুড়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে একাধিক দফায় কালবৈশাখী, বজ্রঝড় ও তাপপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

 

আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত আবহাওয়াবিদ ড. মো. বজলুর রশিদ জানান, ১৫ মে-র পর বঙ্গোপসাগরে এক থেকে দুইটি লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে একটি নিম্নচাপ ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

ঢাকায় অনুষ্ঠিত দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস কমিটির সভা শেষে এ তথ্য জানানো হয়। কমিটির চেয়ারম্যান ও আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মো. মমিনুল ইসলাম বলেন, মে মাসে সারাদেশে মোটামুটি স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হতে পারে। তবে কিছু এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।

 

বিভাগভিত্তিক পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে সিলেট বিভাগে, ৫২০ থেকে ৫৪০ মিলিমিটার পর্যন্ত। এরপর ময়মনসিংহে ৩৪০–৩৬০ মিলিমিটার, চট্টগ্রামে ৩৩০–৩৫০ মিলিমিটার, রংপুরে ২৬০–২৮০ মিলিমিটার, ঢাকা বিভাগে ২৫০–২৭০ মিলিমিটার, বরিশালে ২২০–২৫০ মিলিমিটার, রাজশাহীতে ১৭০–১৯০ মিলিমিটার এবং খুলনায় ১৬০–১৮০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হতে পারে।

 

এছাড়া মে মাসে ৫ থেকে ৮ দিন পর্যন্ত হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কালবৈশাখী ও বজ্রঝড়ের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২ থেকে ৩ দিন তীব্র কালবৈশাখী হতে পারে। কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।

 

তাপমাত্রা পরিস্থিতি নিয়ে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দিন ও রাতের তাপমাত্রা মোটামুটি স্বাভাবিক থাকলেও দেশের কিছু এলাকায় ১ থেকে ৩ দফা মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে একটি দফা তীব্র তাপপ্রবাহে রূপ নিতে পারে, যেখানে তাপমাত্রা ৪০ থেকে ৪১.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে।

 

নদ-নদীর পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও বিচ্ছিন্ন ভারী বৃষ্টির কারণে উত্তর, উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কিছু নদীর পানি সাময়িকভাবে বাড়তে পারে বলে জানানো হয়েছে।

এদিকে কৃষি আবহাওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মে মাসে গড় বাষ্পীভবন ৩.৫ থেকে ৫.৫ মিলিমিটার এবং সূর্যকিরণকাল সাড়ে ৫ থেকে সাড়ে ৭ ঘণ্টা থাকতে পারে, যা কৃষিকাজের জন্য মোটামুটি অনুকূল।

 

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এপ্রিল মাসে দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৭৫.৭ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। বরিশাল, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে স্বাভাবিকের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিমা লঘুচাপ ও পূবালী বায়ুর সংযোগে এপ্রিলজুড়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টি, বজ্রপাত ও শিলাবৃষ্টি দেখা গেছে। মাসের সর্বোচ্চ একদিনের বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয় কিশোরগঞ্জের নিকলীতে, আর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয় রাজশাহীতে।


সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির     |     প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০৬, লেভেল #০৯, ইস্টার্ন আরজু , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ৬১, বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ   +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ   +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬