নেপালে ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা ৯৫৫, নিখোঁজ প্রায় ৪ হাজার
সিএনএন
নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯৫৫ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো প্রায় ৪ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। এর মধ্যে নুয়াকোট জেলার বেত্রাবতী এলাকার একটি বাড়ি থেকে একসঙ্গে ২৩ জনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় দুর্যোগের ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সোমবার সকালে ওই বাড়ি থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। বন্যার প্রবল স্রোতে বাড়িটি ভেসে যাওয়ার পর মরদেহগুলো সেখানে আটকা পড়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত ২৬ আগস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছে বরফ ও পাথরের ধস থেকে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়। প্রবল স্রোতে ভোতে কোশি ও ত্রিশূলী নদী অববাহিকার উত্তর ও মধ্য নেপালের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। এতে বহু ঘরবাড়ি, যানবাহন, সড়ক ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি বেশ কয়েকটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পও ক্ষতির মুখে পড়ে।
বন্যার পর থেকেই নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে নেপালের বিভিন্ন সংস্থা। তবে ঘন কাদা, ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগব্যবস্থা ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলগুলোতে আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন উদ্ধারকারীরা।
কর্তৃপক্ষের হিসাবে, ১১টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ৯৩৩ শ্রমিক নিখোঁজ বা আটকা পড়েছেন। রাশুয়া ও নুয়াকোট জেলার কয়েকটি টানেলে এখনো উদ্ধারকাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত প্রায় ৪০ থেকে ৪২ জন প্রকৌশলীরও কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। একইভাবে ত্রিশূলী-৩বি প্রকল্পের ১১৮ শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন।
উদ্ধার অভিযানে নেপাল সেনাবাহিনী কাদা ও পানি সরাতে খননযন্ত্র, সার্চলাইট ও নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ ব্যবহার করছে। তবে টানেলের ভেতরের প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে অভিযান ধীরগতিতে এগোচ্ছে।
এদিকে ভারতের উত্তর প্রদেশের কুশীনগরে গণ্ডক নদী থেকে ১৩টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ছয়জন নারী ও সাতজন পুরুষ। মরদেহগুলো নেপালে হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।
নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে হাসপাতাল ও বিভিন্ন উদ্ধারকেন্দ্রে ভিড় করছেন পরিবারের সদস্যরা। দীর্ঘ সময় পানিতে থাকার কারণে অনেক মরদেহের চেহারা বিকৃত হয়ে যাওয়ায় পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। স্বজনেরা পোশাক, গয়না, ট্যাটু ও ব্যক্তিগত সামগ্রী দেখে মরদেহ শনাক্তের চেষ্টা করছেন। প্রয়োজনে ডিএনএ পরীক্ষারও সহায়তা নেওয়া হচ্ছে।
মরদেহ উদ্ধার ও শনাক্তকরণ কার্যক্রম জোরদারে ফ্রিজার, ডিএনএ কিট, লাইডার, ড্রোন এবং সেতু নির্মাণের সরঞ্জাম চেয়েছে নেপাল। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে ভারত, চীন, সিঙ্গাপুর ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশ সহযোগিতা করছে।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, বন্যাকবলিত এলাকায় প্রায় ৬৫ হাজার মানুষের জরুরি পানি, পয়োনিষ্কাশন ও স্বাস্থ্যসেবা প্রয়োজন। পাশাপাশি ২২ হাজারের বেশি শিশুর সুরক্ষা সহায়তা দরকার। বন্যায় ১৯টি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৯টি পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে এবং আটটি স্কুল বর্তমানে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
এ পর্যন্ত বন্যাকবলিত এলাকা থেকে ১০ হাজারের বেশি মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়াদের মধ্যে ৩২৩ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৩৯টি দেশের প্রায় ৫৯০ বিদেশি নাগরিক এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির (সম্পাদক) | প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার (প্রকাশক)
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০৬, লেভেল #০৯, ইস্টার্ন আরজু , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ৬১, বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬