১০ মাস বেতন নেই, চাকরি দিতে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ মুরাদনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে
বিল্লাল হোসাইন, মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া নিরাপত্তা প্রহরীদের ১০ মাস ধরে বেতন না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে চাকরি দেওয়ার নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগীরা। এতে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে জানিয়েছেন তারা।
ভুক্তভোগী মোহাম্মদ আলামিন ও মামুন মিয়া জানান, দীর্ঘদিন ধরে বেতন না পাওয়ায় সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা।
আবেগাপ্লুত কণ্ঠে আলামিন বলেন, “ঈদ আইতেছে। গরু কেনা তো পরের কথা, পুলাপান লিচু খাইতে চায়। টেহার অভাবে লিচুও কিনে দিতে পারতাছি না।”
মামুন মিয়া অভিযোগ করে বলেন, চাকরিতে নিয়োগের সময় হাসপাতালের স্টোরকিপার মো. আব্দুল কাদের তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে ৭৫ হাজার টাকা করে নিয়েছেন। এছাড়া দুটি হাঁসও দিতে হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। পরে টাকা ফেরতের দাবিতে লিখিত অভিযোগও করেছেন বলে জানান।
তিনি বলেন, “টাকা পাইলে অন্য কিছু করতাম। এই মাগনা খাটুনি আর করতাম না।”
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হাসপাতালের স্টোরকিপার মো. আব্দুল কাদের।
এদিকে অভিযোগ অনুসন্ধানে হাসপাতালটির বিভিন্ন অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও এর অধীন সাতটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের জন্য ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এমএসআর চিকিৎসা ও শৈল চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনায় ২ কোটি ৪০ লাখ ৩৮ হাজার ৫০০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ‘কেমিক্যাল রিএজেন্ট (এক্স-রে ফিল্ম ও ইসিজি পেপার)’ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৪ লাখ ৮০ হাজার ৭৭০ টাকা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় দুই বছর ধরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে সেবা কার্যত বন্ধ রয়েছে। হাসপাতালের চারটি এক্স-রে মেশিনের মধ্যে তিনটি নষ্ট। একটি সচল থাকলেও রেডিওগ্রাফার না থাকায় সেটিও ব্যবহার করা যাচ্ছে না।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, রেডিওগ্রাফার রেখা রানী ২০২৪ সালের শুরুতে অতিরিক্ত দায়িত্বে সপ্তাহে দুই দিন কাজ করতেন। পরে ওই বছরের আগস্টে বদলি হয়ে যাওয়ার পর আর নতুন কোনো রেডিওগ্রাফার পদায়ন হয়নি।
এ বিষয়ে রেখা রানী বলেন, “চারটি মেশিনের মধ্যে একটি সচল ছিল। বদলির পর আমি টাঙ্গাইলে চলে আসি।”
স্থানীয়দের দাবি, একদিকে চিকিৎসাসেবা বন্ধ থাকলেও অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট খাতে বরাদ্দ অব্যাহত থাকায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এছাড়া ওষুধ ক্রয়ের টেন্ডার সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) থেকেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। দুদকের সহকারী পরিচালক মো. তারিকুর রহমান স্বাক্ষরিত ওই চিঠির স্মারক নম্বর—০০.০১.১৯০০.৭১৪.০১.০১৮.২৫.৭৯৯।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নুসরাত জাহান বলেন, “আমি নতুন যোগদান করেছি। আগের কর্মকর্তারা বিষয়টি ভালো বলতে পারবেন।”
তবে সদ্য বিদায়ী কর্মকর্তা ডা. সিরাজুল ইসলাম মানিকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির | প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০৬, লেভেল #০৯, ইস্টার্ন আরজু , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ৬১, বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬