২৬ বছর পর রোকেয়ার ঘরে আলো, মিলল পানির সংযোগ
📌 কুমিল্লার মুরাদনগরে ৮১ বছর বয়সী অসহায় বৃদ্ধার পাশে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন....
মো: আমিনুল ইসলাম:
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার পদুয়া গ্রামের ৮১ বছর বয়সী বৃদ্ধা রোকেয়া খাতুনের জীবনে অবশেষে ফিরেছে স্বস্তির আলো। প্রায় ২৬ বছর পর তাঁর জীর্ণ কুটিরে পৌঁছেছে বিদ্যুতের সংযোগ। একই সঙ্গে সুপেয় পানির জন্য বসানো হয়েছে নতুন একটি টিউবওয়েল।
নবীপুর পশ্চিম ইউনিয়নের পদুয়া গ্রামের এক টুকরো টিনের চালের নিচে দীর্ঘদিন ধরে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছিলেন রোকেয়া খাতুন। অভাব-অনটনের সঙ্গে যোগ হয়েছিল দীর্ঘ ১৬ বছরের নিঃসঙ্গতা। স্বামী গোফরান মিয়া মারা যাওয়ার পর থেকেই একাকী জীবন কাটছে তাঁর।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় আড়াই দশক আগে পদুয়া গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগ পৌঁছালেও রোকেয়া খাতুনের ঘরে বিদ্যুতের আলো জ্বলেনি। সুপেয় পানির জন্যও তাঁর ঘরে ছিল না কোনো গভীর নলকূপের ব্যবস্থা। দুই ছেলে ও দুই মেয়ে থাকলেও অভাব-অনটনের কারণে মায়ের নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব হয়ে ওঠেনি।
এ অবস্থায় সম্প্রতি রোকেয়া খাতুনের মানবেতর জীবনযাপনের বিষয়টি জানতে পারে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘কুলুবাড়ি তরুণ সমাজ সামাজিক সংগঠন’। খবর পেয়ে সংগঠনের সভাপতি পাপিয়া সরকারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল তাঁর বাড়িতে গিয়ে সরেজমিনে পরিস্থিতি দেখে।
পরে সংগঠনটির উদ্যোগে দ্রুত রোকেয়া খাতুনের ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগের মিটার স্থাপন করা হয়। পাশাপাশি সুপেয় পানির সংকট দূর করতে বসানো হয় একটি নতুন টিউবওয়েল।
২৬ বছর পর ঘরে বিদ্যুতের আলো এবং পানির ব্যবস্থা পেয়ে স্বস্তি ফিরেছে বৃদ্ধা রোকেয়া খাতুনের জীবনে। তবে এখনো তাঁর বসবাসের ঘরটি অত্যন্ত জীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ। তাই বিদ্যুতের আলোয় নতুন দিনের স্বপ্ন দেখলেও নিরাপদ একটি ঘরের প্রত্যাশা তাঁর।
অসহায় রোকেয়া খাতুনের আকুতি, জীবনের শেষ সময়ে যেন মাথা গোঁজার জন্য একটি নিরাপদ ঘর পান। সরকারের কাছে তাঁর প্রত্যাশা, মানবিক দৃষ্টিতে তাঁর দুর্দশার বিষয়টি বিবেচনা করে একটি নিরাপদ বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।
সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির (সম্পাদক) | প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার (প্রকাশক)
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০৬, লেভেল #০৯, ইস্টার্ন আরজু , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ৬১, বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬