|
প্রিন্টের সময়কালঃ ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ০২:৪৬ অপরাহ্ণ     |     প্রকাশকালঃ ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ১২:২৩ অপরাহ্ণ

টঙ্গীতে সাত বছরের শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মাদ্রাসাশিক্ষক গ্রেপ্তার


টঙ্গীতে সাত বছরের শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মাদ্রাসাশিক্ষক গ্রেপ্তার


নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর:

 

গাজীপুরের টঙ্গীতে সাত বছর বয়সী এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মোসলেম আহম্মদ নামে এক মাদ্রাসাশিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন। বৃহস্পতিবার আদালতের মাধ্যমে গ্রেপ্তার শিক্ষককে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
 

অন্যদিকে, ওই শিক্ষককে মারধর, মাদ্রাসায় ভাঙচুর এবং অর্থ ও মোবাইল ফোন লুটের অভিযোগ তুলে পৃথক মামলা করেছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষককে মারধরের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
 

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার ক্বারীউল কোরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার নিচতলার সিঁড়িতে শিশুটিকে যৌন নিপীড়ন করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন তার বাবা। এ ঘটনার পর বুধবার দুপুরে শিশুটির স্বজনেরা মাদ্রাসায় গিয়ে শিক্ষক মোসলেম আহম্মদকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন সেখানে জড়ো হন। একপর্যায়ে শিক্ষককে মারধর করা হয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
 

মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ আলমাছ হোসেন অভিযোগ করেন, শিশুটির বাবার নেতৃত্বে ১৫ থেকে ১৬ জনের একটি দল মাদ্রাসায় প্রবেশ করে শিক্ষক মোসলেম আহম্মদকে মারধর করে। তাঁকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে অন্য শিক্ষক-শিক্ষিকা ও নিরাপত্তাকর্মীরাও হামলার শিকার হন। এ সময় মাদ্রাসার কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানো হয় এবং সেখান থেকে ১৭ লাখ টাকা ও মোবাইল ফোন লুট করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
 

এদিকে, শুক্রবার বিকেলে মাদ্রাসা ভবনের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ ও সংবাদ সম্মেলন করে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। সেখানে বক্তারা বলেন, শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন করতে হবে। তবে অভিযোগের নিষ্পত্তি হওয়ার আগেই আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে কাউকে মারধর করা কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
 

এর আগে ‘শানে সাহাবা খতিব ফাউন্ডেশন’সহ বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠনের নেতারা শিক্ষককে মারধরের নিন্দা জানান। হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করা না হলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা। ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শামীম মজুমদার বলেন, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেবে।
 

অন্যদিকে, মাদ্রাসায় লুটপাটের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শিশুটির বাবা। গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ঘটনার পর বিভিন্ন জায়গা থেকে তাঁকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও হুমকিমূলক মন্তব্য করা হচ্ছে। এ কারণে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
 

টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে শিক্ষক মোসলেম আহম্মদকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া মাদ্রাসায় ভাঙচুর ও শিক্ষকদের মারধরের অভিযোগে শুক্রবার কর্তৃপক্ষ পৃথক অভিযোগ দিয়েছে। এতে একজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা ১০ থেকে ১৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
 

শিশুটির প্রতি যৌন নিপীড়নের অভিযোগ এবং মাদ্রাসায় হামলা ও লুটপাটের পাল্টা অভিযোগ—দুই ঘটনারই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে।


সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির (সম্পাদক)     |     প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার (প্রকাশক)
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০২, লেভেল #০২, মাহতাব সেন্টার , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ১৭৭ , বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ   +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ   +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬