|
প্রিন্টের সময়কালঃ ১২ অক্টোবর ২০২৬ ০৩:১৩ পূর্বাহ্ণ     |     প্রকাশকালঃ ১১ অক্টোবর ২০২৬ ০৫:১৭ অপরাহ্ণ

নেপালে আকস্মিক বন্যা, নিখোঁজ ৫


নেপালে আকস্মিক বন্যা, নিখোঁজ ৫


আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

 

নেপালের উত্তর-মধ্যাঞ্চলে বুধি গণ্ডকী নদীতে আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বন্যায় অন্তত পাঁচজন নিখোঁজ হয়েছেন। ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চারটি সেতু এবং ভেসে গেছে প্রায় ৩০টি বাড়িঘর। দুর্গত এলাকায় আটকে পড়াদের উদ্ধারে হেলিকপ্টার ও স্থলবাহিনী মোতায়েন করেছে নেপালি সেনাবাহিনী।
 

রোববার নদীর পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ স্থানীয়দের সতর্ক থাকার পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানায়। রোববার গভীর রাত পর্যন্ত সতর্কতা জারি ছিল।
 

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আকস্মিক বন্যায় একটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া নদীতীরবর্তী এলাকায় বিদ্যুৎ ও যোগাযোগের বেশ কয়েকটি টাওয়ারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নেপালি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, হেলিকপ্টার ও স্থলবাহিনীর সমন্বয়ে উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে। রোববার বিকেল পর্যন্ত ৪৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
 

কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, চুমচুরে গ্রামের কাছে ভূমিধসের কারণে প্রথমে বুধি গণ্ডকী নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়। পরে ভূমিধসে তৈরি অস্থায়ী বাঁধ ভেঙে গেলে হঠাৎ করে পানির প্রবল স্রোত নেমে এসে বন্যার সৃষ্টি হয়। বুধি গণ্ডকী নদী পরে ত্রিশূলী নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে। নদীটি কাঠমান্ডুর আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ জলপথগুলোর একটি।
 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে পাহাড়ি এলাকায় প্রবল স্রোতে ঘরবাড়ি ও স্থাপনা ভেসে যেতে দেখা গেছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকার কতগুলো গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সরকারি সতর্কবার্তার পর নদীতীরবর্তী আরুঘাট শহরের বাসিন্দাদেরও নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় বিভিন্ন পোস্টে জানানো হয়েছে। শহরটি কাঠমান্ডুকে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে সংযুক্তকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের পাশে অবস্থিত।
 

এদিকে, নেপাল এখনো গত আগস্টে নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকায় আঘাত হানা ভয়াবহ বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। ওই দুর্যোগে এক হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু এবং আরও কয়েক হাজার মানুষ নিখোঁজ হওয়ার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
 

সোমবার নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহের কার্যালয় জানিয়েছে, ওই বন্যায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে পরিচালিত উদ্ধার অভিযান শেষ হয়েছে। এখন পুনর্বাসন ও পুনর্গঠন কার্যক্রমে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর আওতায় বন্যায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া সড়ক ও সেতু পুনর্নির্মাণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো মেরামতের কাজ রয়েছে।
 

দুর্গম এলাকায় সড়ক ও অন্যান্য অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেখানে ত্রাণ ও জরুরি সহায়তা পৌঁছানোও কঠিন হয়ে পড়েছে। সরকারের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ওই দুর্যোগের পর পুনর্গঠন ও পুনর্বাসনে প্রায় ৪৭৭ কোটি মার্কিন ডলার প্রয়োজন হবে। এতে প্রায় ৩৩ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত এবং প্রায় ৭ হাজার ৫০০টি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত বা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে।


সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির (সম্পাদক)     |     প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার (প্রকাশক)
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০২, লেভেল #০২, মাহতাব সেন্টার , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ১৭৭ , বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ   +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ   +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬