|
প্রিন্টের সময়কালঃ ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ০৪:০২ অপরাহ্ণ     |     প্রকাশকালঃ ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ১২:৫৭ অপরাহ্ণ

রূপপুরে উন্নয়নের জোয়ার—গ্রাম থেকে আধুনিক নগরীতে রূপান্তর


রূপপুরে উন্নয়নের জোয়ার—গ্রাম থেকে আধুনিক নগরীতে রূপান্তর


পাবনা প্রতিনিধি:



পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুরে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পকে ঘিরে এক দশকের ব্যবধানে ঘটেছে বিস্ময়কর পরিবর্তন। একসময় জঙ্গল, বালুচর ও জনমানবশূন্য এলাকায় গড়ে উঠেছে আধুনিক অবকাঠামোসমৃদ্ধ প্রাণচঞ্চল নগরায়ন।

 

যেখানে আগে দিনের বেলাতেও ভয়ে মানুষ যেত না, সেই রূপপুর এখন হাজারো মানুষের পদচারণায় মুখর। প্রকল্প এলাকাজুড়ে গড়ে উঠেছে আধুনিক স্থাপনা, আবাসন ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং ও ফিজিক্যাল স্টার্টআপ শুরুর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বের ৩৩তম পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারকারী দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
 

রূপপুরের পাশের সাহাপুর গ্রামেও দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে। আগে যেখানে ঘন জঙ্গল ও জনশূন্যতা ছিল, সেখানে এখন প্রায় পাঁচ হাজার বিদেশির বসবাসের জন্য নির্মিত হয়েছে ২০ তলা ‘গ্রিন সিটি’ আবাসন। আশপাশে গড়ে উঠেছে আধুনিক মার্কেট, রেস্তোরাঁ ও বহুতল ভবন।
 

অর্থনৈতিক উন্নয়নে আমূল পরিবর্তন
রূপপুর প্রকল্প ঘিরে স্থানীয়দের জীবনযাত্রায় এসেছে বড় ধরনের পরিবর্তন। একসময় দিনমজুরি বা কৃষিকাজে নির্ভরশীল মানুষ এখন প্রকল্পে কাজ কিংবা ছোট ব্যবসার মাধ্যমে সচ্ছলতা অর্জন করেছেন। কাঁচা ঘরের পরিবর্তে এখন ইটের দালান, অনেক বাড়িতে যুক্ত হয়েছে আধুনিক সুবিধা। জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের পাশাপাশি বেড়েছে ভোগ্যপণ্যের ব্যবহার।

 

জমির দামে ঊর্ধ্বগতি
প্রকল্প শুরুর আগে যেখানে জমির দাম বিঘা হিসেবে নির্ধারিত হতো, এখন তা শতাংশ হিসেবে বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয়দের মতে, ১০-১৫ বছর আগে যে জমির দাম ছিল ৩০-৪০ হাজার টাকা প্রতি বিঘা, বর্তমানে তা বেড়ে প্রতি শতাংশ এক থেকে দুই লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

 

ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন দিগন্ত
রূপপুর, সাহাপুর, জয়নগর ও মানিকনগর এলাকার মানুষের পেশাগত কাঠামোতেও এসেছে পরিবর্তন। কৃষিনির্ভরতা কমে গিয়ে এখন হোটেল-রেস্তোরাঁ, খুচরা ব্যবসা, সেবা খাতে কর্মসংস্থান বেড়েছে। বিদেশি কর্মীদের চাহিদা মেটাতে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন আধুনিক প্রতিষ্ঠান, যেখানে বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি রাশিয়ান ভাষার ব্যবহারও দেখা যায়।

 

‘নতুন হাট’-এর রূপান্তর
সাহাপুরের ঐতিহ্যবাহী ‘নতুন হাট’, যা আগে সপ্তাহে দুই দিন বসত, এখন প্রতিদিনের বাজারে পরিণত হয়েছে। বিদেশি কর্মীদের উপস্থিতিতে বাজারের পরিধি ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম বেড়েছে বহুগুণে। বাজারের চারপাশে গড়ে উঠেছে স্যালুন, সুপারশপ, ক্যাফে ও অন্যান্য আধুনিক দোকান।

 

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা জানান, বিদেশিদের সঙ্গে মেলামেশার ফলে ভাষা ও সংস্কৃতিতেও এসেছে পরিবর্তন। অনেক বিদেশি যেমন বাংলা শিখছেন, তেমনি স্থানীয়রাও রাশিয়ান ভাষা আয়ত্ত করছেন।
 

সব মিলিয়ে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রেই নয়, বরং একটি অঞ্চলের সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নেরও নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।


সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির     |     প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০৬, লেভেল #০৯, ইস্টার্ন আরজু , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ৬১, বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ   +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ   +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬