|
প্রিন্টের সময়কালঃ ২১ এপ্রিল ২০২৬ ১২:০৩ অপরাহ্ণ     |     প্রকাশকালঃ ২০ এপ্রিল ২০২৬ ০৩:৩৭ অপরাহ্ণ

‘এক্স’ তদন্তে ইলন মাস্ককে ফ্রান্সে তলব


‘এক্স’ তদন্তে ইলন মাস্ককে ফ্রান্সে তলব


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) নিয়ে ফ্রান্সে চলমান একটি তদন্তের অংশ হিসেবে কোটিপতি ইলন মাস্ককে সোমবার প্যারিসে একটি স্বেচ্ছামূলক সাক্ষাৎকারের জন্য তলব করা হয়েছে। 

তবে তিনি সেখানে উপস্থিত হবেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

ফরাসি কর্তৃপক্ষ গত ফেব্রুয়ারিতে মাস্ককে এই তলবপত্র জারি করে। 

মূলত ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে শুরু হওয়া একটি তদন্তের অংশ হিসেবে এটি করা হয়েছে, যেখানে অভিযোগ করা হয়েছে যে এক্স-এর অ্যালগরিদম ফরাসি রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করতে ব্যবহৃত হয়েছে। 

পরবর্তীতে এই তদন্তের পরিধি আরও বাড়ানো হয়। এর মধ্যে যুক্ত করা হয়েছে এক্স-এর এআই চ্যাটবট ‘গ্রোক’-এর মাধ্যমে হলোকাস্ট অস্বীকার ও যৌনতাপূর্ণ ডিপফেক (এটি এমন এ ধরনের ভিডিও বা ছবি, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে কারও মুখ অন্য কারও শরীরে বসিয়ে যৌন বা অশালীন কনটেন্ট তৈরি করা হয়) প্রচারের বিষয়টি। 

ফেব্রুয়ারির শুরুতে ফরাসি প্রসিকিউটররা এক্স-এর প্যারিস অফিসে তল্লাশি চালায়। প্যারিস থেকে এএফপি এ খবর জানিয়েছে। 

এই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম জায়ান্ট কোনো অন্যায় করার কথা অস্বীকার করেছে এবং এই অভিযানকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ ও ‘বিচারিক ক্ষমতার অপব্যবহার’ বলে নিন্দা জানিয়েছে।

সেই সময় প্যারিস প্রসিকিউটররা মাস্ক ও তৎকালীন সিইও লিন্ডা ইয়াকারিনোকেও স্বেচ্ছামূলক সাক্ষাৎকারের জন্য তলব করেছিলেন। 

ঘটনার সময় এক্স প্ল্যাটফর্মের ‘কার্যত ও আইনত ব্যবস্থাপক’ হিসেবে তাদের তলব করা হয়, যাকে মাস্ক একটি ‘রাজনৈতিক আক্রমণ’ বলে অভিহিত করেছিলেন। 

উল্লেখ্য, দুই বছর দায়িত্ব পালনের পর গত বছরের জুলাই মাসে ইয়াকারিনো এক্স-এর সিইও পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

গত ফেব্রুয়ারিতে প্যারিসের প্রসিকিউটর লর বেকুয়াও জানিয়েছিলেন, এক্স-এর কর্মচারীদেরও ২০ থেকে ২৪ এপ্রিলের মধ্যে সাক্ষী হিসেবে শুনানির জন্য উপস্থিত হতে বলা হয়েছে।

শনিবার প্যারিসের প্রসিকিউটরের কার্যালয় জানিয়েছে, স্বেচ্ছায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আমন্ত্রিত ব্যক্তিরা হাজির হন বা না হন, তা ‘তদন্তের ধারাবাহিকতায় কোনো বাধা হবে না’।

কর্মকর্তারা মাস্কের নির্ধারিত সাক্ষাৎকারের স্থান বা সময় সম্পর্কে কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি।

ফরাসি তদন্তটি বেশ কিছু সন্দেহভাজন ফৌজদারি অপরাধের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। 

এই অপরাধগুলোর মধ্যে রয়েছে— শিশু যৌন নির্যাতনের উপাদান (ছবি/ভিডিও) দখলে রাখা সংক্রান্ত অপরাধে সহযোগিতা বা জড়িত থাকা ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ অস্বীকার করা। 

গত জুলাইয়ে কোম্পানিটি এই তদন্তকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে আখ্যা দিয়েছিল। 

গ্রোক-এর বিরুদ্ধে ব্যাপক আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়ার অংশ হিসেবে এই ফরাসি তদন্তটি চলছে। 

অভিযোগ উঠেছে যে ব্যবহারকারীরা সাধারণ টেক্সট প্রম্পট ব্যবহার করে নারী ও শিশুদের আপত্তিকর ছবি তৈরি করতে পারছে।

একটি পৃথক তদন্তে, ব্রিটেনের ডেটা রেগুলেটর গত ফেব্রুয়ারিতে মাস্কের ‘এক্স’ ও ‘এক্সএআই’-এর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে। গ্রোক-এর মাধ্যমে যৌনতাপূর্ণ ডিপফেক তৈরির ক্ষেত্রে কোম্পানিগুলো ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা আইন মেনে চলেছে কি না, তা নিয়ে ‘গুরুতর উদ্বেগ’ থেকে এই তদন্ত শুরু হয়।


সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির     |     প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০৬, লেভেল #০৯, ইস্টার্ন আরজু , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ৬১, বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ   +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ   +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬