|
প্রিন্টের সময়কালঃ ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ০৬:১৮ অপরাহ্ণ     |     প্রকাশকালঃ ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ০৩:৫৪ অপরাহ্ণ

সরকার বদলালেও বদলায়নি ঢাকার লক্কড়ঝক্কড় বাস, যাত্রী ভোগান্তি চরমে


সরকার বদলালেও বদলায়নি ঢাকার লক্কড়ঝক্কড় বাস, যাত্রী ভোগান্তি চরমে


রাজধানী ঢাকার সড়কে এখনও দাপিয়ে বেড়াচ্ছে লক্কড়ঝক্কড়, মেয়াদোত্তীর্ণ ও ফিটনেসবিহীন লোকাল বাস। সরকার পরিবর্তনের পর গণপরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফেরানোর নানা প্রতিশ্রুতি এলেও বাস্তবে এর কোনো কার্যকর প্রতিফলন দেখা যায়নি।

বরং আগের মতোই চলছে অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা ও যাত্রী ভোগান্তি। কয়েক দশক ধরে ঢাকার গণপরিবহনে বিশৃঙ্খলা চলছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আশা ছিল, হয়তো এবার বদলাবে গণপরিবহনের চিত্র।

কিন্তু ক্ষমতার পালাবদল হলেও বাসের চেহারা ও বিশৃঙ্খলা রয়ে গেছে আগের মতোই। ২০২৬ এলেও চিত্রে তেমন কোনো পরিবর্তন আসেনি।

রাজধানীর মিরপুর, গাবতলী, যাত্রাবাড়ী ও সদরঘাট এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে—অধিকাংশ লোকাল বাসই ভাঙাচোরা, অতিরিক্ত যাত্রী বহন করছে এবং নির্ধারিত স্টপেজ মানছে না।

যানজটে আটকা পড়ে প্রতিদিন কর্মক্ষম মানুষের কোটি টাকার শ্রমঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য, সিটিং সার্ভিসের নামে প্রতারণা-সব মিলিয়ে গণপরিবহনগুলোকে মুড়ির টিনে পরিণত করে ইচ্ছামতো যাত্রী হয়রানি করা হচ্ছে।

ভয়াবহ বায়ুদূষণ ও ধূলিদূষণের শিকার হচ্ছে নগরবাসী। কেউ ইশারা দিলেই থেমে যাচ্ছে বাস। অনেক বাসের দরজা ঠিকমতো বন্ধ হয় না, ফলে যাত্রীদের ঝুঁকিপূর্ণভাবে দরজায় ঝুলে চলাচল করতে হচ্ছে।

জনগণের ভোগান্তি হলেও নির্দিষ্ট সময়ে কর্মস্থলে পৌঁছানোর তাগিদে জীবনের নিরাপত্তার কথা চিন্তা না করেই উঠতে হচ্ছে এসব লোকাল বাসে।

পুলিশ ইন্সপেক্টর (টাউন ও ট্রাফিক) কর্মকর্তা মো. তরিকুল আলম জানান, অধিকাংশ লোকাল বাসই ভাঙাচোরা, অতিরিক্ত যাত্রী বহন করে এবং নির্ধারিত স্টপেজ মানে না। মোড় থেকে একশ হাত দূরে বাসস্ট্যান্ড করা হয়েছে, কিন্তু বাসগুলো কোনো যাত্রী ইশারা দিলেই থেমে যাচ্ছে এবং যেখানে নামতে চায় সেখানেই নামিয়ে দিচ্ছে। এতে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। আমরা জরিমানা করি, কিন্তু এতেও সমাধান হয় না। এর জন্য যাত্রীদেরও সচেতনতার প্রয়োজন।

যাত্রীদের অভিযোগ, বাসে ওঠা মানেই চরম ভোগান্তি। দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থেকে লোকাল বাস পেলেও অতিরিক্ত ভিড়, চালকদের বেপরোয়া গতি-সব মিলিয়ে প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে তাদের।

এমনই একজন বেসরকারি চাকরিজীবী পাপন সিকদার আমার সংবাদকে জানান, “আমি প্রতিদিনই ধোলাইপাড় থেকে অফিসে আসি। বাসা থেকে রাস্তায় এসে ৩০ থেকে ৩৫ মিনিট অপেক্ষার পর একটি গাড়ি পেলেও অনেক সময় সিট থাকে না, ঝুলে আসতে হয়। আবার এমনও হয়েছে, গাড়ি রাস্তার অর্ধেক পথ এসে বন্ধ হয়ে গেছে। প্রতিদিন বাসে ওঠা মানেই যুদ্ধ। কোনো শৃঙ্খলা নেই, নিরাপত্তাও নেই।”

অন্য এক যাত্রী বলেন, “অনেক বাস এতটাই পুরনো যে উঠতে ভয় লাগে। মেয়েদের জন্য পরিস্থিতি আরও খারাপ। বাচ্চা নিয়ে বাসে ওঠা খুব কষ্টকর। সিট পাওয়া যায় না, ভিড় সামলানো কঠিন।”

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গণপরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে কার্যকর নজরদারির ঘাটতি রয়েছে। নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)-এর তদারকি জোরদার না হলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয়।

পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরনো বাস অপসারণ, রুটভিত্তিক ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবস্থা চালু, চালক-হেলপারদের প্রশিক্ষণ এবং কঠোর আইন প্রয়োগ ছাড়া এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

সরকার বদলালেও যদি গণপরিবহন ব্যবস্থায় দৃশ্যমান পরিবর্তন না আসে, তাহলে ঢাকার সড়কে ‘লক্কড়ঝক্কড়’ বাসের দৌরাত্ম্য কমবে না। ফলে যাত্রী ভোগান্তিও থেকে যাবে আগের মতোই।


সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির     |     প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০৬, লেভেল #০৯, ইস্টার্ন আরজু , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ৬১, বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ   +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ   +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬