কাজিপুরে পাটের বাম্পার ফলন, হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখে
কাজিপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি:
অনুকূল আবহাওয়া, সময়মতো সরকারি সহায়তা এবং কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়মিত পরামর্শে চলতি মৌসুমে সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলায় পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নতুন পাট কাটা, জাগ দেওয়া ও আঁশ ছাড়ানোর কাজে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। স্থানীয় হাটবাজারে নতুন পাট উঠতে শুরু করায় ভালো দাম পাওয়ার আশায় কৃষকদের মধ্যে উৎসাহও বেড়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর কাজিপুরে প্রায় ৪ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে চাষ হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। চরাঞ্চলসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে তোষা, দেশি, মেস্তা ও বিদেশি জাতের পাটের চাষ হয়েছে এবং অধিকাংশ ক্ষেতেই ফলন আশানুরূপ হয়েছে।
কৃষকরা জানান, অনুকূল আবহাওয়ার কারণে পাটের বৃদ্ধি ভালো হয়েছে। নদী-খাল ও জলাশয়ে সহজেই পাট জাগ দেওয়া সম্ভব হওয়ায় আঁশের মানও ভালো পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমানে নদী ও খালের পানিতে পাট জাগ দেওয়া এবং আঁশ ছাড়ানোর কাজে দিনরাত ব্যস্ত রয়েছেন তারা।
তবে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় কিছুটা উদ্বেগও রয়েছে কৃষকদের মধ্যে। বিশেষ করে শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি পাওয়ায় পাট উৎপাদনের খরচ আগের তুলনায় বেড়েছে। এছাড়া কয়েকটি এলাকায় জাগ দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পানির সংকটও ভোগান্তির সৃষ্টি করেছে। বাজারে পাটের দাম নিয়ে কৃষকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া থাকলেও অনেকেই বর্তমান মূল্যকে সন্তোষজনক বলে মনে করছেন।
কাজিপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম বলেন, "অনুকূল আবহাওয়া, সময়মতো সরকারি প্রণোদনা, মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়মিত পরামর্শ এবং পোকামাকড়ের আক্রমণ কম থাকায় এ বছর উপজেলায় পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। কৃষকরা উন্নত ব্যবস্থাপনায় চাষ করায় উৎপাদনও সন্তোষজনক হয়েছে।"
তিনি আরও জানান, কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পাট চাষে উৎসাহিত করতে কৃষি বিভাগ নিয়মিত মাঠপর্যায়ে পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।
সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির (সম্পাদক) | প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার (প্রকাশক)
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০৬, লেভেল #০৯, ইস্টার্ন আরজু , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ৬১, বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬