পঞ্চগড়ে ২০ জনকে হুইলচেয়ার ও শিক্ষার্থীদের ৩৯টি বাইসাইকেল বিতরণ

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ২৭ আগu ২০২৬ ০৮:৪০ অপরাহ্ণ   |   ১০৩ বার পঠিত
পঞ্চগড়ে ২০ জনকে হুইলচেয়ার ও শিক্ষার্থীদের ৩৯টি বাইসাইকেল বিতরণ

মোছাঃ আছমা আক্তার আখি, পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি:

 


পঞ্চগড় সদর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অসচ্ছল ও চলাচলে প্রতিবন্ধকতার শিকার ২০ জনের মধ্যে হুইলচেয়ার এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে ৩৯টি বাইসাইকেল বিতরণ করা হয়েছে।


বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সুবিধাভোগীদের হাতে এসব সহায়তা তুলে দেওয়া হয়।


অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফাহমিদা সুলতানা, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এমএ মজিদ, অ্যাডভোকেট আদম সুফি, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু দাউদ প্রধান, সাধারণ সম্পাদক মাহফুজার রহমান বাবু এবং সদর উপজেলা সমাজসেবা অফিসার লায়লা আরজুমানসহ উপজেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।


বক্তারা বলেন, সমাজের পিছিয়ে পড়া ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো রাষ্ট্র ও সমাজের সবার দায়িত্ব। একটি হুইলচেয়ার শারীরিক প্রতিবন্ধী মানুষের চলাচলে স্বস্তি এনে দিতে পারে। একইভাবে একটি বাইসাইকেল প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত সহজ করে শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।


তারা আরও বলেন, এ ধরনের সহায়তা সুবিধাবঞ্চিত মানুষের আত্মনির্ভরশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধেও সহায়ক হবে।


বাইসাইকেল পাওয়া দশমাইল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মারজান সুলতানা বলেন, বাড়ি থেকে বিদ্যালয়ে যেতে প্রতিদিন অনেকটা পথ পাড়ি দিতে হয়। বাইসাইকেল পাওয়ায় এখন সহজে ও সময়মতো বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে পারবেন তিনি।


হুইলচেয়ার পেয়ে গড়িনাবাড়ী ইউনিয়নের জোদ্দারপাড়া এলাকার আলেমা খাতুন বলেন, চলাফেরা করতে দীর্ঘদিন ধরে তাকে অনেক কষ্ট করতে হতো। নিজের একটি হুইলচেয়ার হবে, তা কখনো ভাবেননি। এখন পরিবারের সদস্যদের ওপর আগের মতো নির্ভর করতে হবে না বলে জানান তিনি।


জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এমএ মজিদ বলেন, বিএনপি গণমানুষের অধিকার ও কল্যাণের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো সবার দায়িত্ব। এ উদ্যোগের মাধ্যমে মানুষের কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।


অ্যাডভোকেট আদম সুফি বলেন, জনগণের সুখ-দুঃখের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকাই রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য। সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করাই লক্ষ্য হওয়া উচিত।


সদর উপজেলা সমাজসেবা অফিসার লায়লা আরজুমান বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে অসচ্ছল, প্রতিবন্ধী ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করা হচ্ছে। প্রকৃত উপকারভোগী নির্বাচন করে তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা দেওয়াই এ কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য।


সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফাহমিদা সুলতানা বলেন, সরকারি সহায়তা প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে পৌঁছে দেওয়াই উপজেলা প্রশাসনের মূল লক্ষ্য। চলাচলে সমস্যায় থাকা ব্যক্তিদের জন্য হুইলচেয়ার এবং দূরবর্তী এলাকা থেকে বিদ্যালয়ে যাতায়াতকারী শিক্ষার্থীদের জন্য বাইসাইকেল দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও প্রয়োজন অনুযায়ী এ ধরনের সহায়তা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করা হবে।


অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সুবিধাভোগী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।