বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের অবরুদ্ধ, কম্বাইন্ড ডিগ্রির দাবিতে উত্তেজনা চরমে

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ৩১ আগu ২০২৫ ০৮:৩৭ অপরাহ্ণ   |   ২৯ বার পঠিত
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের অবরুদ্ধ, কম্বাইন্ড ডিগ্রির দাবিতে উত্তেজনা চরমে

কম্বাইন্ড ডিগ্রি চালুর দাবিতে দীর্ঘ এক মাস ধরে আন্দোলন চলছিল বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি)। রোববার একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসার পর ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা উপাচার্যসহ প্রায় আড়াই শতাধিক শিক্ষককে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন। শিক্ষার্থীরা মিলনায়তনের প্রধান ফটকে তালাও ঝুলিয়ে দিয়েছেন।
 

ভেটেরিনারি অনুষদ এবং পশুপালন অনুষদের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানাচ্ছেন, তাদের দুটি ডিগ্রিকে একত্র করে একটি কম্বাইন্ড ডিগ্রি চালু করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভোটাভুটি করলেও এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি।
 

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে পশুপালন অনুষদের কিয়াম জুনায়েদ এবং ভেটেরিনারি অনুষদের মো. সোহাগ জানান, “যতক্ষণ পর্যন্ত কম্বাইন্ড ডিগ্রির প্রজ্ঞাপন জারি হবে না, ততক্ষণ আমাদের আন্দোলন চলবে। প্রয়োজনে আমরা আরও কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করব।”
 

অন্যদিকে, ভেটেরিনারি অনুষদের অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম জানান, “কম্বাইন্ড ডিগ্রি চালু না হলে ৬০ বছরের পুরনো সমস্যার সমাধান হবে না। তবে একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় নতুন একটি ডিগ্রি প্রবর্তনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যার ফলে মোট তিনটি ডিগ্রি হবে। এটি শিক্ষার্থীদের ক্ষোভের কারণ হয়েছে এবং তারা আমাদের অবরুদ্ধ করেছে।”
 

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. মো. হেলাল উদ্দিন সমকালকে বলেন, “শিক্ষার্থীরা মব কালচার সৃষ্টি করে আমাদের আটকে রেখেছে। তাদের দাবি বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। অবরুদ্ধ অনেক শিক্ষক ভেতরে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন, তবু শিক্ষার্থীরা গেটের তালা খুলছে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনা আগে ঘটেনি।”
 

তিনি আরও যোগ করেন, “আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অবগত রয়েছে, তবে বল প্রয়োগের অনুমতি আমরা দিচ্ছি না। শিক্ষকরা যদি মারা যান, তবুও কোনো দাবি মানা হবে না।”
 

সহকারী প্রোক্টর প্রফেসর ড. কাজী ফরহাদ কাদির বলেন, “প্রক্টরিয়াল বডির সকল সদস্যসহ মিটিংয়ে আসা শিক্ষকদের ছাত্ররা অবরুদ্ধ করে রেখেছে। তবে শিক্ষকরা তাদের নীতি ও অবস্থানে অটল রয়েছেন।”