নিজস্ব প্রতিবেদক:
দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প-এ আজ মঙ্গলবার জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। এর মাধ্যমে প্রকল্পটি নির্মাণ পর্যায় পেরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতিমূলক ধাপে প্রবেশ করছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই পদক্ষেপের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে যাত্রা শুরু করছে।
পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ‘জ্বালানি’ বলতে মূলত ইউরেনিয়ামকে বোঝায়, যা বিশেষ প্রক্রিয়ায় পরিশোধিত হয়ে রিঅ্যাক্টরে ব্যবহার করা হয়। জ্বালানি লোডিং হলো সেই প্রক্রিয়া, যেখানে রিঅ্যাক্টরের ভেতরে ইউরেনিয়ামভিত্তিক ফুয়েল স্থাপন করা হয়—যা ভবিষ্যৎ বিদ্যুৎ উৎপাদনের ভিত্তি তৈরি করে।
বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. শৌকত আকবর বলেন, জ্বালানি লোডিং একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হলেও এটি সরাসরি বিদ্যুৎ উৎপাদন নয়। বরং এটি একটি দীর্ঘ ও সূক্ষ্ম কারিগরি প্রক্রিয়ার সূচনা। এই ধাপ শেষে রিঅ্যাক্টরে প্রথমবারের মতো নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু করা হয়, যাকে ‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি’ বলা হয়।
তিনি আরও জানান, শুরুতে রিঅ্যাক্টরকে খুব নিম্ন ক্ষমতায় (১ থেকে ৩ শতাংশ) পরিচালনা করে বিভিন্ন পারমাণবিক পরামিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়, যাতে নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করা যায়।
পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল অংশ হলো রিঅ্যাক্টর, যেখানে নিউক্লিয়ার ফিশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইউরেনিয়াম পরমাণুর বিভাজন ঘটে বিপুল তাপশক্তি উৎপন্ন হয়। এই তাপ দিয়ে পানি বাষ্পে রূপান্তরিত হয়ে টারবাইন ঘোরায়, যার মাধ্যমে উৎপন্ন হয় বিদ্যুৎ।
রিঅ্যাক্টরের ভিভিআর-১২০০ ডিজাইন অনুযায়ী, মোট ১৬৩টি ফুয়েল অ্যাসেম্বলি স্থাপন করতে প্রায় ৩০ দিন সময় লাগবে। পুরো প্রক্রিয়াটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে কঠোর পর্যবেক্ষণের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে।
জ্বালানি লোডিং শেষে শুরু হবে ‘ফিজিক্যাল স্টার্টআপ’ ধাপ, যেখানে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে রিঅ্যাক্টরের কার্যকারিতা যাচাই করা হবে। এই ধাপ সম্পন্ন করতে প্রায় ৩৪ দিন সময় লাগবে। এরপর ধাপে ধাপে রিঅ্যাক্টরের উৎপাদন ক্ষমতা ৩% থেকে ৩০% পর্যন্ত বাড়ানো হবে, যা সম্পন্ন করতে আরও প্রায় ৪০ দিন প্রয়োজন হবে।
রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা ৩০ শতাংশে পৌঁছালে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন বাড়ানো এবং নিরাপত্তা পরীক্ষা চালানো হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পুরো প্রক্রিয়া শেষে জাতীয় গ্রিডে পূর্ণমাত্রায় বিদ্যুৎ পেতে সময় লাগতে পারে প্রায় ১০ মাস।