কুমিল্লায় বাড়ছে বায়ুদূষণ, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকিও

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ৩০ নভেম্বর ২০২৫ ০৮:৫৫ অপরাহ্ণ   |   ৪০ বার পঠিত
কুমিল্লায় বাড়ছে বায়ুদূষণ, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকিও

আবুল কালাম আজাদ ভূঁইয়া, কুমিল্লা প্রতিনিধিঃ


 

কুমিল্লায় প্রতিদিনই বাড়ছে বায়ুদূষণের মাত্রা। শহর থেকে শুরু করে গ্রামাঞ্চলের হাটবাজার, রাস্তাঘাট ও অলিগলি—সবখানেই ধুলাবালির প্রকোপ মারাত্মকভাবে বেড়ে গেছে। এর ফলে শ্বাসকষ্ট, হাঁচি-কাশি এবং নানা ধরনের রোগজীবাণুর আক্রমণে ভুগছেন সাধারণ মানুষ। শিশু ও প্রবীণরা এই দূষণের সবচেয়ে বেশি শিকার হচ্ছেন।
 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লা শহরসহ বিভিন্ন উপজেলার সড়কে বড় ড্রাম ট্রাক ও লরি দিয়ে আচ্ছাদনহীনভাবে বালু পরিবহন করা হচ্ছে। প্রচলিত আইন অনুযায়ী বালুবাহী যানবাহন পুরোপুরি ঢেকে রাখা বাধ্যতামূলক হলেও তা মানা হচ্ছে না। ফলে দ্রুতগতিতে চলার সময় বালু বাতাসে উড়িয়ে ধুলা ছড়িয়ে পড়ছে। এতে পথচারী ও যানবাহনের আরোহীরা প্রায়ই দুর্ঘটনা ও শারীরিক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। স্থানীয়দের দাবি, এসব যানবাহন কাপড় বা ত্রিপল দিয়ে সম্পূর্ণভাবে ঢেকে পরিবহন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন।
 

কুমিল্লা পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, শীতকালে বায়ুদূষণ যেমন বাড়ে, তেমনি বাড়ে সংক্রামক রোগের ঝুঁকিও।
 

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুষ্ক মৌসুমে মুরাদনগর উপজেলায় শতাধিক ইটভাটায় ইট প্রস্তুত ও পোড়ানো, অপরিকল্পিতভাবে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি, আচ্ছাদন ছাড়া ট্রাকে বালু পরিবহন, ড্রেন পরিষ্কার করে রাস্তার পাশে ময়লা স্তূপ করা, দোকানপাট ও গৃহস্থালি আবর্জনা যত্রতত্র ফেলা, ভাঙাচোরা রাস্তায় যানবাহনের চলাচল এবং ভবন নির্মাণের সময় নির্মাণ সামগ্রী ফুটপাতে রেখে দেওয়ার ফলে ধুলাবালির মাত্রা ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। এসব উৎস থেকে উড়ন্ত ধুলা বাতাসে মিশে পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য ও অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
 

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা 'হেলথ ইন্সটিটিউট' এবং 'ইনস্টিটিউট ফর হেলথ মেট্রিক্স অ্যান্ড ইভালুয়েশন'–এর প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বায়ুদূষণের কারণে বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ১ লাখ ২২ হাজার ৪০০ মানুষের মৃত্যু ঘটে।
 

গ্লোবাল বার্ডেন অব ডিজিজ স্টাডির তথ্যমতে, দেশে বায়ুদূষণজনিত কারণে ১১ শতাংশ ডায়াবেটিস, ১৬ শতাংশ ফুসফুসের ক্যান্সার, ১৫ শতাংশ হৃদরোগ এবং ৬ শতাংশ স্ট্রোকের জন্য দায়ী।
 

শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. সাবরিনা চৌধুরী জানান, বায়ুদূষণের ফলে শ্বাসকষ্ট ও হাঁচি-কাশিতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। অ্যালার্জি জনিত শ্বাসকষ্টের ক্ষেত্রে মাথাব্যথা, নাক দিয়ে পানি পড়া এবং পরবর্তীতে অ্যাজমার মতো জটিল সমস্যা দেখা দেয়। তিনি সতর্ক করে আরও বলেন, “বায়ুদূষণ প্রতিরোধে এখনই সচেতন না হলে ভবিষ্যতে জনস্বাস্থ্যে ভয়াবহ প্রভাব পড়তে পারে।”
 

➡️ অতিসত্বর ব্যবস্থা গ্রহণ ও সচেতনতা বৃদ্ধি এখন সময়ের দাবি।