ঢাকা বাইপাসের পাশে সরকারি খাল দখল–ভরাটে জলাবদ্ধতার শঙ্কা: পাউবোর হেয়ালি, উদ্ধারে নেই কার্যকর উদ্যোগ, বিচ্ছিন্ন খালগুলো শীতলক্ষ্যার সঙ্গে হারিয়েছে সংযোগ

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ৩১ আগu ২০২৫ ০৭:২১ অপরাহ্ণ   |   ৪২ বার পঠিত
ঢাকা বাইপাসের পাশে সরকারি খাল দখল–ভরাটে জলাবদ্ধতার শঙ্কা: পাউবোর হেয়ালি, উদ্ধারে নেই কার্যকর উদ্যোগ, বিচ্ছিন্ন খালগুলো শীতলক্ষ্যার সঙ্গে হারিয়েছে সংযোগ

আবুল কালাম আজাদ ভূঁইয়াঃ-

 

যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে গাজীপুর–মদনপুর এশিয়ান হাইওয়ে (ঢাকা বাইপাস) ১৮০ ফুটে প্রশস্ত করা হচ্ছে। তবে সড়ক নির্মাণের কাজ করতে গিয়ে ড্রেজার দিয়ে ভরাট করে দেওয়া হয়েছে সড়কের পাশের সরকারি খাল। এতে বন্ধ হয়ে গেছে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ। মাসের পর মাস খাল ভরাট হয়ে থাকলেও উদ্ধারে নেই কোনো তৎপরতা।
 

এদিকে খালগুলোর উপর একের পর এক অবৈধ স্থাপনা গড়ে ওঠায় শীতলক্ষ্যা নদীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে নেই সংযোগ। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব এলাকায় তৈরি হচ্ছে জলাবদ্ধতা, ভোগান্তিতে পড়ছে শত শত পরিবার।


খালের ইতিহাস..........

১৯৮১ সালে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সির (জাইকা) সহায়তায় “নারায়ণগঞ্জ-নরসিংদী ইরিগেশন প্রজেক্ট”–এর আওতায় বেড়িবাঁধ ও খাল খনন করা হয়। কৃষি জমির সেচ ও পানি নিষ্কাশনের জন্য অধিগ্রহণকৃত জমিতে খাল খনন করে সংযোগ দেওয়া হয় শীতলক্ষ্যা নদীর সঙ্গে। কিন্তু দীর্ঘ চার দশক রক্ষণাবেক্ষণের অভাব ও অবৈধ দখল–দুষণে অধিকাংশ খাল ভরাট হয়ে যাচ্ছে। কোথাও আবার জমি অধিগ্রহণ হলেও খাল খননই করা হয়নি।


সরেজমিন চিত্র..............

কাঞ্চন পৌরসভা, মুড়াপাড়া, ভুলতা ও গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের প্রায় ৩০ গ্রামের আড়াই হাজার বিঘা জমির সেচ–নিষ্কাশনের জন্য খাল রয়েছে। কিন্তু এসব খালের ওপর গড়ে উঠেছে বালুর গদি, শিল্পকারখানা, বাজার ও বসতবাড়ি।
 

  • হাটাব–বারইপাড়া এলাকায় কানি বিল খালের ওপর বাগানবাড়ি নির্মিত হওয়ায় বন্ধ হয়েছে পানির চলাচল।

  • কালাদী থেকে গোলাকান্দাইল পর্যন্ত বাইপাস সড়ক নির্মাণে সরকারি খাল দখল হয়ে আছে।

  • নলপাথর ও কুশাব এলাকায় বালুর গদি, হান্ডিমার্কেটে এটলাস টয়লেট্রিজ, এনডিই রেডিমিক্স, বিভিন্ন ওয়ার্কশপ ও কারখানা সরাসরি খালের ওপর স্থাপিত।
     

ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই কৃষিজমি তলিয়ে যাচ্ছে, ভারী বর্ষণে রূপ নিচ্ছে ভয়াবহ জলাবদ্ধতায়।


স্থানীয়দের ক্ষোভ.........

কৃষক ও এলাকাবাসীর অভিযোগ—

  • খালের শীতলক্ষ্যার সঙ্গে সংযোগ বহু বছর ধরে বন্ধ।

  • প্রশাসন মাঝে মাঝে খণ্ডিত অভিযানে যায়, কিন্তু মূল সমস্যার সমাধান করে না।

  • দখলদাররা আবার জলাবদ্ধতার বিরুদ্ধে মানববন্ধনও করছে।
     

একজন কৃষক বলেন, “নদীর সঙ্গে খালের সংযোগ না করলে জলাবদ্ধতা কখনোই কমবে না।”


প্রশাসনের অবস্থান.....

  • পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ–প্রকৌশলী রেজাউল করিম বলেন, ইরিগেশন প্রকল্পের খাল উদ্ধারে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হয়েছে, শিগগিরই অভিযান হবে।
     

  • সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রধান সহকারী প্রকৌশলী এ.এস.এম ইলিয়াস শাহ জানান, বাইপাস সড়কের কাজ করতে গিয়ে খাল ভরাটের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

  • উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, খাল ও খাসজমি উদ্ধারে অভিযান চলছে, শিগগিরই নতুন খনন কার্যক্রম শুরু হবে।


সামগ্রিক চিত্র......

সরকারি খাল ভরাট ও দখলের কারণে শীতলক্ষ্যার সঙ্গে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে পুরো অঞ্চলের পানিপ্রবাহ। এর প্রভাবে কৃষি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছে এবং পানিবাহিত রোগ ছড়াচ্ছে। দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।