কিশোরগঞ্জের ভৈরবে পুত্রবধূকে ধর্ষণচেষ্টা ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে শ্বশুর ও শাশুড়িকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার বিকেলে উপজেলার আগানগর ইউনিয়নের জগমোহনপুর এলাকার নিজ বাড়ি থেকে তাদের আটক করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—স্থানীয় তোতা আলীর ছেলে আমির আলী (৬৫) ও তার স্ত্রী সমেলা বেগম (৫৫)। অভিযোগকারী নারী দেলোয়ারা বেগম (২৪), যিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর বিটুই গ্রামের হাসেম মিয়ার মেয়ে এবং অভিযুক্ত আমির আলীর ছেলে সাব্বিরের স্ত্রী।
থানা সূত্রে জানা যায়, ছয় বছর আগে পারিবারিকভাবে দেলোয়ারার বিয়ে হয় সাব্বিরের সঙ্গে। তাদের সংসারে তিনটি সন্তান রয়েছে। পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ফেরাতে দুই বছর আগে প্রবাসে চলে যান সাব্বির। এরপর থেকেই শ্বশুরবাড়িতে দেলোয়ারার ওপর নির্যাতন শুরু হয়।
তিন বছর আগে শ্বশুর আমির আলী প্রথমবারের মতো তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসা করা হলেও পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি।
গত ১২ মার্চ, বুধবার রাতে দেলোয়ারা ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় তার শ্বশুর ঘরে ঢুকে আবারও ধর্ষণের চেষ্টা করেন। তিনি চিৎকার করলে আমির আলী পালিয়ে যান। পরবর্তী সময়ে শাশুড়ি সমেলা বেগমকে ঘটনাটি জানালে তিনি উল্টো দেলোয়ারাকে মারধর করেন, যার ফলে তার মুখে ও চোখে জখম হয়।
পরিস্থিতির শিকার হয়ে দেলোয়ারা বেগম ১৬ মার্চ রাতে ভৈরব থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।
ভুক্তভোগী দেলোয়ারা বলেন,
"আমার শ্বশুর বহুদিন ধরে কুদৃষ্টি দিয়ে আসছিলেন। তিন বছর আগে ধর্ষণের চেষ্টা করলেও আমি কোনোমতে রক্ষা পাই। এরপর থেকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছি। ১২ মার্চ রাতে তিনি আমার ঘরে প্রবেশ করে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করেন। চিৎকার করলে পালিয়ে যান। শাশুড়িকে জানালে তিনি উল্টো আমাকে মারধর করেন। আমি প্রাণে বাঁচতে বড় বোনের বাড়িতে আশ্রয় নিই ও চিকিৎসা গ্রহণ করি। আমি আমার শ্বশুর ও শাশুড়ির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খন্দকার ফুয়াদ রুহানি জানান,
"অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে জানা যায়, অভিযুক্ত আমির আলী লম্পট প্রকৃতির ব্যক্তি। এ ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় তাকে ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আইনি প্রক্রিয়া চলমান থাকবে। গ্রেপ্তারকৃতদের ১৭ মার্চ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।”