আলোচনা ছাড়াই সংসদে পাস ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন’, বিরোধী দলের আপত্তি

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ১৫ জুলাই ২০২৬ ০৭:১৬ অপরাহ্ণ   |   ১৩৩ বার পঠিত
আলোচনা ছাড়াই সংসদে পাস ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন’, বিরোধী দলের আপত্তি

ঢাকা প্রেস প্রতিবেদক


 

সংসদে বিস্তারিত আলোচনা ও বিরোধী দলের সংশোধনী প্রস্তাব উত্থাপনের সুযোগ না দিয়েই ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন’ পাস হয়েছে। বুধবার জাতীয় সংসদে মাত্র ২৮ মিনিটের মধ্যে বিলটি কণ্ঠভোটে পাস করা হয়। বিরোধী দলের সদস্যরা এ প্রক্রিয়ায় আপত্তি জানালেও তা নাকচ করা হয়।
 

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পক্ষে বিলটি উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বিলটির মাধ্যমে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব কর্তৃপক্ষ (পিপিপিএ) এবং সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সংস্থাকে একীভূত করে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ’ গঠন করা হবে। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক অঞ্চল আইন, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব আইন, বিনিয়োগ কর্তৃপক্ষ আইন এবং ওয়ান স্টপ সার্ভিস আইন বাতিল হবে। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর বিলটি আইনে পরিণত হবে।
 

বিল উত্থাপনের পর পাবনা-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান মোমেন আপত্তি জানিয়ে বলেন, বিরোধী দলের সদস্যরা বিলের কপি মাত্র কিছুক্ষণ আগে হাতে পেয়েছেন। সংসদীয় বিধি অনুযায়ী তিন দিন আগে বিলের কপি সরবরাহ না করায় তারা সংশোধনী প্রস্তাব দেওয়ার সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
 

জবাবে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল জানান, সময় সংক্রান্ত বিধান মার্জনা করা হয়েছে। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, স্পিকারের অনুমোদন থাকলে এ ধরনের পরিস্থিতিতে বিল উত্থাপনের বিধান রয়েছে।
 

এ সময় এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ প্রশ্ন তোলেন, পর্যাপ্ত সময় না দিলে বিরোধী দল কীভাবে বিলের সংশোধনী প্রস্তাব প্রস্তুত করবে।
 

বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানও বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানিয়ে বলেন, সময়ের অভাবে আইন দ্রুত পাস করার নজির আগেও ছিল। তবে ভবিষ্যতে বিরোধী দলের অধিকার ও দায়িত্ব পালনের সুযোগ নিশ্চিত করা উচিত। তিনি বলেন, এটি শুধু অধিকারের নয়, সংসদের দায়িত্বশীলতা রক্ষারও বিষয়।
 

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংসদ অধিবেশনের শেষ দিন হওয়ায় এবং বিনিয়োগ-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের স্বার্থে বিলটি দ্রুত পাস করা প্রয়োজন। পাশাপাশি দেশের বন্যা পরিস্থিতির কারণে অনেক সংসদ সদস্য নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় ফিরতে চান। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে সংসদে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হলে যৌক্তিক প্রস্তাবগুলো বিবেচনা করা হবে।
 

এরপর ডেপুটি স্পিকার মন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বলেন, জাতীয় সংসদে দেওয়া প্রতিশ্রুতি যেন যথাযথভাবে রক্ষা করা হয়।
 

পরে বিএনপি জোটের সংসদ সদস্যদের কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়। বিরোধী দলের আপত্তি সত্ত্বেও বিলটি নিয়ে কোনো বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়নি।