চোরাই গার্মেন্টস কাপড় উদ্ধার: যুবদল নেতার গোডাউন থেকে মালামাল, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা গ্রেপ্তার

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ০৬ মে ২০২৬ ০৪:০০ অপরাহ্ণ   |   ৬১ বার পঠিত
চোরাই গার্মেন্টস কাপড় উদ্ধার: যুবদল নেতার গোডাউন থেকে মালামাল, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা গ্রেপ্তার

আজিজুর রহমান, নোয়াখালী প্রতিনিধি:

 

 

নোয়াখালীর সুবর্ণচর ও হাতিয়ায় পৃথক অভিযানে বিপুল পরিমাণ চোরাইকৃত গার্মেন্টস কাপড় উদ্ধার করেছে চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ ঘটনায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আবুল বাশারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত কাপড়ের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৬০ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
 

মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখার উপপরিদর্শক (এসআই) মহিউদ্দিন রাজু বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, সোমবার (৪ মে) সুবর্ণচর উপজেলার চরবাটা ইউনিয়নের চরমজিদ ভূঞারহাট বাজার এবং হাতিয়া উপজেলার হরণী ইউনিয়নের বয়ারচরের আজিম নগর টিনের মসজিদ এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব কাপড় উদ্ধার করা হয়।
 

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ এপ্রিল রাতে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে আমদানীকৃত ১৬৩টি কাপড়ের বান্ডিল একটি কাভার্ডভ্যানে করে গাজীপুরে নেওয়ার উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়। তবে ২৫ এপ্রিল ভোররাতে চালকের যোগসাজশে কাভার্ডভ্যানটি গন্তব্যে না গিয়ে আত্মসাৎ করা হয়।
 

পরবর্তীতে কাভার্ডভ্যান চালক সুমনসহ একটি চক্র কাপড়গুলো নোয়াখালীর সুবর্ণচর ও হাতিয়ায় নিয়ে যায়। চক্রের সদস্যদের সহায়তায় কাপড়গুলো দুই ভাগে ভাগ করে একাংশ হাতিয়ার একটি ঘরে এবং অন্য অংশ সুবর্ণচরের একটি গোডাউনে সংরক্ষণ করা হয় বলে জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।
 

অভিযানে চরমজিদ ভূঞারহাট বাজার থেকে ৯৬টি এবং হরণী ইউনিয়ন থেকে ৬৭টি কাপড়ের বান্ডিল উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, সুবর্ণচরের ওই গোডাউনটি উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব নুরুল হুদার মালিকানাধীন।
 

এ ঘটনায় গত ২৭ এপ্রিল চট্টগ্রামের হালিশহর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলার সূত্র ধরে ডিবি পুলিশ অভিযান চালিয়ে আবুল বাশারকে গ্রেপ্তার করে। তাকে আদালতে সোপর্দের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
 

তবে অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকজন এখনো পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে ডিবি।
 

অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা নিজেদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, তারা সরাসরি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন এবং বিষয়টি নিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
 

এ ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি এত বড় পরিমাণ চোরাই মালামাল পরিবহন ও সংরক্ষণের পেছনে প্রভাবশালী মহলের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা।