২০ লাখ ব্যারেল তেলভর্তি জাহাজে ড্রোন হামলা, সাগরে ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ৩১ মার্চ ২০২৬ ০২:১১ অপরাহ্ণ   |   ৪২ বার পঠিত
২০ লাখ ব্যারেল তেলভর্তি জাহাজে ড্রোন হামলা, সাগরে ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

 

দুবাই বন্দরের বহির্নোঙরে জ্বালানি তেলবোঝাই একটি বিশাল জাহাজে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৩০ মার্চ) এ হামলার জন্য ইরান-কে দায়ী করা হয়েছে। হামলার পর জাহাজটিতে আগুন ধরে যায় এবং এর মূল কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ফলে সাগরে তেল ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

 

দুবাই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগুন লাগার পর দ্রুত নৌ-অগ্নিনির্বাপক দল কাজ শুরু করে এবং মঙ্গলবার ভোরে কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। জাহাজের ২৪ জন ক্রু সদস্য নিরাপদ রয়েছেন এবং কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

 

ঘটনাটি ঘটে ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর এক সতর্কবার্তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালি খুলে না দেয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্র ও তেল স্থাপনায় হামলা চালাতে পারে।

 

উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল কর্তৃক ইরানে হামলার পর থেকেই পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা বেড়েছে। এর জেরে বাণিজ্যিক জাহাজে ধারাবাহিক হামলার ঘটনাও ঘটছে।

 

‘আল-সালমি’ নামের কুয়েতি এই জাহাজটির মালিক কুয়েত পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (কেপিসি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, হামলায় জাহাজটির বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে এবং তেল ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। জাহাজটি কুয়েত ও সৌদি আরব থেকে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেল নিয়ে চিংদাও বন্দর-এর উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল।

 

ঘটনার পর কুয়েতের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কুনা (KUNA) খবর প্রকাশ করলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম সাময়িকভাবে বেড়ে যায়। জাহাজটিতে বহনযোগ্য তেলের বাজারমূল্য ২০ কোটি ডলারের বেশি বলে জানা গেছে।

 

তবে পরবর্তীতে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ট্রাম্প যুদ্ধ পরিস্থিতি দ্রুত শেষ করতে আগ্রহী এবং এই মুহূর্তে সামরিক পদক্ষেপকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন না। এতে তেলের দাম কিছুটা কমে আসে।

 

দুবাই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজটির ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে কাজ চলছে এবং পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।