বিনোদন ডেস্ক
বলিউড সুপারস্টার সালমান খান-এর মুম্বাইয়ের বাসভবনের বাইরে গুলি চালানোর ঘটনায় নতুন মোড় নিয়েছে তদন্ত। ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে সংঘটিত আলোচিত ওই হামলা শুধুমাত্র ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে ছিল না, বরং তাকে হত্যা করার চেষ্টা—এমনটাই আদালতে জানিয়েছেন তার দেহরক্ষী।
মুম্বাইয়ের একটি বিশেষ আদালতে চলমান মামলায় সম্প্রতি সাক্ষ্য দেন সালমান খানের দেহরক্ষী, যিনি একই সঙ্গে মামলার বাদীও। তার জবানবন্দি মামলার গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংবাদ সংস্থা পিটিআই-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেহরক্ষী ১৪ এপ্রিল ২০২৪ ভোরে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেন। তিনি জানান, আগের দিন ১৩ এপ্রিল সন্ধ্যা থেকেই তিনি দায়িত্বে ছিলেন। গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইয়-এর হুমকির কারণে তখন সালমান খানের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছিল।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে হঠাৎ পটকা ফাটার মতো শব্দ শোনা যায়। পরে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, হেলমেট পরিহিত দুই ব্যক্তি মোটরসাইকেলে এসে গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। হামলাকারীরা চার থেকে পাঁচ রাউন্ড গুলি চালিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
আদালতে উপস্থাপিত ফুটেজ দেখে দেহরক্ষী হামলাকারীদের শনাক্ত করেন। জানা গেছে, তারা ‘আই লাভ বান্দ্রা’ পয়েন্ট ও মেহবুব স্টুডিও রোডের দিকে পালিয়ে যায়।
দেহরক্ষী তার সাক্ষ্যে স্পষ্টভাবে বলেন, “এটি কোনো সতর্কবার্তা ছিল না, বরং সরাসরি সালমান খানকে হত্যার চেষ্টা।” তিনি আরও জানান, ঘটনার সময় অভিনেতা ভবনের দ্বিতীয় তলায় নিজ কক্ষে অবস্থান করছিলেন।
এদিকে, মামলার আরেক সাক্ষী জানান, তিনি গুলি চালানোর দৃশ্য প্রত্যক্ষ না করলেও ঘটনাস্থলের কাছে কার্তুজের খোসা পড়ে থাকতে দেখেছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ভিকি গুপ্তা ও সাগর পাল মোটরসাইকেলে করে এসে গুলি চালায়। এছাড়া মোহাম্মদ রফিক সরদার চৌধুরী হামলার দুই দিন আগে ঘটনাস্থল রেকি করে সেই ভিডিও আনমল বিষ্ণোইয়-এর কাছে পাঠিয়েছিলেন।