ডামুড্যায় খেলতে গিয়ে নিখোঁজ, ছয় ঘণ্টা পর শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ০৩ অক্টোবর ২০২৬ ০৬:২৮ অপরাহ্ণ   |   ৪৮ বার পঠিত
ডামুড্যায় খেলতে গিয়ে নিখোঁজ, ছয় ঘণ্টা পর শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার

শরীয়তপুর প্রতিনিধি

 

 

শরীয়তপুরের ডামুড্যায় বাড়ির বাইরে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ছয় ঘণ্টা পর সোয়াইফ হোসেন (৪) নামে এক শিশুর বস্তাবন্দি গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে রাসেল শিকদার (২২) নামে এক তরুণকে আটক করা হয়েছে।
 

শনিবার দুপুর ১টার দিকে উপজেলার শিধলকুড়া ইউনিয়নের পশ্চিম আদাশন এলাকার একটি ডোবা থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত সোয়াইফ ওই গ্রামের সেলিম সরদার ও শিমুলি দম্পতির সন্তান।
 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল ৭টার দিকে বাড়ি থেকে খেলতে বের হয় সোয়াইফ। দীর্ঘ সময় পরও বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা তাকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা শিশুটির সন্ধানে তল্লাশি চালান।
 

একপর্যায়ে স্থানীয় আবু আলম শিকদারের বাড়ির পেছনের ডোবা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, শিশুটির গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল।
 

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, প্রতিবেশী আবু আলম শিকদারের পরিবারের সঙ্গে শুক্রবার সন্ধ্যায় তুচ্ছ বিষয় নিয়ে তাদের বিরোধ হয়। ওই বিরোধের জেরে শিশুটিকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে তারা দাবি করেন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত পরিবারের কোনো সদস্যের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
 

শিশুটির বাবা সেলিম সরদার বলেন, সকালে বাজার থেকে ফিরে তিনি ছেলেকে বাড়িতে দেখতে পাননি। পরে থানায় গিয়ে সাধারণ ডায়েরি করলে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস তল্লাশি চালিয়ে ডোবা থেকে তার ছেলের মরদেহ উদ্ধার করে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
 

মরদেহ উদ্ধারের পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পরে বিক্ষুব্ধ লোকজন অভিযুক্ত পরিবারের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। এ ঘটনায় আবু আলম শিকদারের ছেলে রাসেল শিকদারকে আটক করা হয়েছে।
 

ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আদাশন গ্রাম থেকে এক শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে একজনকে আটক করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।