রাজধানীর মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় নিরাপত্তার স্বার্থে মেট্রোরেলের তিনটি স্টেশনে সাময়িকভাবে ট্রেন চলাচল ও যাত্রী ওঠানামা বন্ধ রাখা হয়েছে। বন্ধ থাকা স্টেশনগুলো হলো—মিরপুর-১০, মিরপুর-১১ ও কাজীপাড়া। তবে মেট্রোরেলের অন্যান্য স্টেশনে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে এমআরটি কন্ট্রোল রুম এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
কন্ট্রোল রুম সূত্র জানায়, মিরপুর এলাকায় পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা ও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে মিরপুর-১০, মিরপুর-১১ ও কাজীপাড়া স্টেশনে সাময়িকভাবে ট্রেন থামানো এবং যাত্রী ওঠানামা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত এসব স্টেশনে সব ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রমও বন্ধ থাকবে।
শ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে গত কয়েক দিন ধরে রাজধানীর মিরপুর, সাভার ও গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে বিক্ষোভ ও কর্মবিরতি পালন করে আসছেন পোশাকশ্রমিকরা। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার সকাল থেকে মিরপুর-১০, মিরপুর-১১, মিরপুর-১২, মিরপুর-১৪ ও প্রশিকা মোড় এলাকায় হাজারো শ্রমিক বিক্ষোভে অংশ নেন।
একপর্যায়ে মিরপুর-১১ এলাকায় আন্দোলনরত শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস, ওয়াটার ক্যানন ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। এ সময় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন। এতে মিরপুরের বিভিন্ন সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং পুরো এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় বিকল্প যাতায়াতের জন্য অনেক যাত্রী মেট্রোরেলের ওপর নির্ভর করতে চাইলেও স্টেশনগুলোর আশপাশে নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হওয়ায় সাময়িকভাবে তিনটি স্টেশন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। এতে সংশ্লিষ্ট এলাকার মেট্রোরেলযাত্রীদের সাময়িক ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।