প্রাথমিক শিক্ষায় মানবিক ও সৃজনশীল ধারা গড়ে তোলার আহ্বান

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ২১ মে ২০২৬ ০৯:১১ পূর্বাহ্ণ   |   ৬৪ বার পঠিত
প্রাথমিক শিক্ষায় মানবিক ও সৃজনশীল ধারা গড়ে তোলার আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক:

 

প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও মানবিক, সৃজনশীল ও আনন্দময় করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন পিরোজপুর সদর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার মামুনুর রশীদ। তিনি বলেছেন, শিক্ষা কেবল তথ্য মুখস্থ করার প্রক্রিয়া নয়; বরং এটি মানুষের আচরণ, চিন্তা ও মানবিক মূল্যবোধের ইতিবাচক বিকাশের অন্যতম প্রধান মাধ্যম।
 

সম্প্রতি প্রাথমিক শিক্ষা বিষয়ে এক বিশ্লেষণধর্মী লেখায় তিনি উল্লেখ করেন, আধুনিক বিশ্বে শিক্ষা আর শৃঙ্খলের প্রতীক নয়, বরং এটি ব্যক্তি ও সমাজ পরিবর্তনের মুক্ত দ্বার। সক্রেটিস, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, আলবার্ট আইনস্টাইনসহ বিশ্ববরেণ্য মনীষীদের শিক্ষা দর্শনের আলোকে তিনি বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা নতুনভাবে ভাবার আহ্বান জানান।
 

লেখায় বলা হয়, শিশুকে যান্ত্রিক মুখস্থবিদ্যার বাইরে এনে প্রশ্নভিত্তিক ও অনুসন্ধানমূলক শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। সক্রেটিসের প্রশ্নোত্তর পদ্ধতির উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিশুদের মুখস্থ উত্তর শেখানোর পরিবর্তে এমনভাবে শেখাতে হবে যাতে তারা নিজের যুক্তি দিয়ে সত্য আবিষ্কার করতে পারে।
 

তিনি আরও বলেন, শিশুদের শ্রেণিকক্ষ শুধু চার দেয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রকৃতিনির্ভর শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। গাছপালা, মাটি, পাখি ও ঋতুচক্রের সঙ্গে পরিচয়ের মধ্য দিয়ে শিশুর শেখা আরও স্থায়ী ও কার্যকর হয়। ইউরোপের স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশগুলোতে প্রচলিত ‘ফরেস্ট স্কুল’ বা আউটডোর লার্নিং পদ্ধতির উদাহরণও তুলে ধরা হয় লেখায়।
 

প্রাথমিক শিক্ষায় কঠোর গ্রেডিং, র‌্যাংকিং ও প্রতিযোগিতামূলক চাপের বিরোধিতা করে মামুনুর রশীদ বলেন, শিশুর স্বাভাবিক বিকাশের জন্য ভয়মুক্ত ও আনন্দময় পরিবেশ অত্যন্ত জরুরি। ফরাসি দার্শনিক রুশো, মারিয়া মন্টেসরি ও ফ্রিডরিখ ফ্রোয়েবেলের শিক্ষা দর্শনের আলোকে তিনি খেলার ছলে শেখানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
 

নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের অভিজ্ঞতার উদাহরণ টেনে তিনি উল্লেখ করেন, প্রতিযোগিতাহীন ও মুক্ত শিক্ষার পরিবেশ শিশুর সুপ্ত মেধা ও সৃজনশীলতাকে বিকশিত করতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
 

লেখায় আরও বলা হয়, প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো হতে হবে বৈষম্যহীন মানবিক সমাজ গঠনের সূতিকাগার। সেখানে ধনী-দরিদ্র, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব শিশুর সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। পাঠ্যক্রমে সহমর্মিতা, অসাম্প্রদায়িকতা, জেন্ডার সমতা ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চা বাড়ানোরও আহ্বান জানানো হয়।
 

তিনি বলেন, শিক্ষা শুধু জিপিএ-৫ অর্জনের প্রতিযোগিতা নয়; বরং শিশুর বুদ্ধিবৃত্তিক, মানসিক ও শারীরিক বিকাশের সুষম সমন্বয়। তাই চিত্রাঙ্কন, সংগীত, খেলাধুলা, নৃত্য ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডকে মূল পাঠ্যক্রমে আরও গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
 

মামুনুর রশীদ মনে করেন, প্রকৃত শিক্ষা সেই শিক্ষা, যা শিশুকে প্রশ্ন করতে শেখায়, প্রকৃতি ও মানুষকে ভালোবাসতে শেখায় এবং নিজের সামর্থ্যের ওপর বিশ্বাস গড়ে তোলে।