কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী বিশেষ অভিযানে ৬২৪ জন কিশোরকে আটক করেছে জেলা পুলিশ। বুধবার সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত জেলার ১৮টি থানায় একযোগে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
বৃহস্পতিবার সকালে গণমাধ্যমে পাঠানো জেলা পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, গত শুক্রবার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ড. নাহিদা বেগমের ছেলে অপ্রতিম কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের হাতে নিহত হওয়ার ঘটনার পর এটি জেলার অন্যতম বড় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান।
অভিযানের পর জেলার সদর দক্ষিণ, কোতোয়ালি ও দাউদকান্দি মডেল থানায় আটক কিশোরদের অভিভাবকদের ভিড় দেখা যায়। রাত ৮টার দিকে শতাধিক অভিভাবক সন্তানদের ছাড়িয়ে নিতে দাউদকান্দি মডেল থানার সামনে জড়ো হন। এ সময় তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দেন বলে জানা গেছে। থানার ভেতরে আসবাবপত্র ও একটি দরজার অংশ ভাঙচুরের অভিযোগও ওঠে। ঘটনার কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
তবে থানায় হামলা বা ভাঙচুরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম পলাশ।
তিনি বলেন, বুধবার সন্ধ্যা থেকে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের শনাক্ত ও আটকের জন্য থানা ও গৌরীপুর তদন্তকেন্দ্রের পুলিশ অভিযান চালায়। এ সময় ৫৯ জনকে আটক করা হয়।
ওসি আরও বলেন, আটকের খবর পেয়ে কয়েকজন অভিভাবক থানায় এসে সন্তানদের ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য হট্টগোল শুরু করেন। কেউ কেউ বাইরে থেকেও উত্তেজনা ছড়ানোর চেষ্টা করেন। এ সময় একটি পুরোনো দরজার অংশ খুলে পড়ে যায়। মানুষের ভিড়ে কয়েকটি চেয়ারও উল্টে যায়।
কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে উঠতি বয়সী কিশোরদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এতে সমাজে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এ পরিস্থিতি বিবেচনায় জেলার ১৮টি থানায় একযোগে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
তিনি জানান, আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। যাচাই শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।