শার্শায় পাটের বাম্পার ফলন, ভালো দাম পেয়ে খুশি কৃষক

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২:৪৭ অপরাহ্ণ   |   ৫১ বার পঠিত
শার্শায় পাটের বাম্পার ফলন, ভালো দাম পেয়ে খুশি কৃষক

শার্শা (যশোর) সংবাদদাতা:



যশোরের শার্শা উপজেলার বিভিন্ন বাজারে উঠতে শুরু করেছে নতুন পাট। এবার অনুকূল আবহাওয়া ও পর্যাপ্ত বৃষ্টির কারণে পাটের ফলন ভালো হয়েছে। পাশাপাশি গত বছরের তুলনায় পাটের দামও বেড়েছে। এতে উৎপাদন খরচ কিছুটা বাড়লেও ভালো দাম পেয়ে সন্তুষ্ট কৃষকরা।


 


 

গত বছর মৌসুমের শুরুতে নতুন পাট প্রতি মণ ২ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছিল। এবার মৌসুমের শুরুতেই প্রতি মণ পাট ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৬০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। বর্তমানে দাম আরও বেড়ে ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত উঠেছে। ফলে গত বছরের তুলনায় এবার প্রতি মণে প্রায় ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা বেশি পাচ্ছেন কৃষকরা।
 

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, অনুকূল আবহাওয়া এবং শার্শার দো-আঁশ মাটির গুণাগুণের কারণে এবার পাটের ফলন ভালো হয়েছে। গত বছর উপজেলায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হলেও এবার তা বেড়ে ৫ হাজার ৫০৩ হেক্টরে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পাটের আবাদ বেড়েছে ৫০৩ হেক্টর।
 

কৃষকরা জানান, গত বছর পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় পাট জাগ দেওয়া নিয়ে তাদের বেশ ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছিল। তবে এবার পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হওয়ায় পাট জাগ দেওয়ার জন্য পানির সংকট হয়নি। ফলে পাট প্রক্রিয়াজাত করাও তুলনামূলক সহজ হয়েছে।
 

তবে কৃষকদের অভিযোগ, গত বছরের তুলনায় এবার পাট উৎপাদনে খরচ বেড়েছে। বিশেষ করে শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি পাওয়ায় খরচ বেড়েছে। গত বছর যেখানে প্রতি শ্রমিককে প্রায় ৪০০ টাকা মজুরি দিয়ে পাওয়া যেত, এবার পাট কাটা, জাগ দেওয়া ও আঁশ ছাড়ানোর কাজে আরও বেশি মজুরি দিতে হচ্ছে। এতে প্রতি মণ পাট উৎপাদনে খরচ গত বছরের তুলনায় প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেড়েছে।
 

উপজেলার লাড়িপুকুর গ্রামের কৃষক জিয়াউর রহমান বলেন, “এবার পাটের ফলন ভালো হয়েছে, আবার দামও ভালো পাচ্ছি। গত বছরের তুলনায় নতুন পাট বিক্রি করে প্রতি মণে প্রায় ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা বেশি পাচ্ছি।”
 

শার্শার বাগআঁচড়া বাজারে পাট কিনতে আসা ব্যবসায়ী শিরাজুল ইসলাম বলেন, তিনি এ বাজার থেকে পাট কিনে ফরিদপুর, খুলনা, বগুড়া ও কুষ্টিয়ার বিভিন্ন মোকামে পাঠান।
 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার শাহা বলেন, অনুকূল আবহাওয়া ও ভালো ফলনের কারণে এ বছর শার্শায় পাটের আবাদ ভালো হয়েছে। সরকারি প্রণোদনা, বিনামূল্যে উন্নতমানের বীজ বিতরণ এবং কৃষি বিভাগের পরামর্শের ফলে চাষিরা উপকৃত হয়েছেন। আগামীতে কৃষকরা আরও বেশি পাট চাষে আগ্রহী হবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।