স্টাফ রিপোর্টার কক্সবাজার:
বিপুল পরিমাণ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও দখলে রাখার দায়ে কক্সবাজারের আলোচিত ব্যবসায়ী এবং ‘দৈনিক দেশ-বিদেশ’ পত্রিকার সম্পাদকমণ্ডলীর চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান প্রকাশ ইয়াহিয়াকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। কারাদণ্ডের পাশাপাশি তাঁকে ১২ কোটি ৫৫ লাখ ১ হাজার ৩৫৩ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে তাঁকে আরও ১ বছর অতিরিক্ত সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
চট্টগ্রামের বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মিজানুর রহমান সম্প্রতি (১৩ অক্টোবর) এই রায় ঘোষণা করেন। ১৫ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) আদালতের রায়ের লিখিত অনুলিপি প্রকাশিত হয়।
রায় ঘোষণার সময় আসামি আনিসুর রহমান ইয়াহিয়া আদালতে অনুপস্থিত থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে সাজাপরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্যানেল আইনজীবী রেজাউল করিম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আসামি তাঁর অর্জিত বিপুল পরিমাণের সম্পদের কোনো বৈধ উৎস দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারায় আদালত তাঁকে এই দণ্ডাদেশ দেন।
মামলা ও বিচারিক নথি সূত্রে জানা যায়, কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার শাহপরীর দ্বীপ এলাকার মৃত হাজি নবী হোসেনের ছেলে আনিসুর রহমান ইয়াহিয়ার বিরুদ্ধে অর্জিত অবৈধ সম্পদের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে ২০০৮ সালের ১৯ নভেম্বর চট্টগ্রামের খুলশী থানায় মামলা দায়ের করে দুদক। মামলাটি করেন তৎকালীন দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-২-এর সহকারী পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম।
পরবর্তীকালে দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০০৯ সালের ৫ জুলাই আসামির বিরুদ্ধে ১২ কোটি ৫৫ লাখ ১ হাজার ৩৫৩ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও দখলের অভিযোগ এনে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করা হয়। ওই বছরের ১৭ আগস্ট আদালত চার্জশিটটি গ্রহণ করেন এবং ২০১৮ সালের ১৪ মার্চ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার কাজ (অভিযোগ গঠন) শুরু হয়।
মামলার বিচার কার্যক্রমে অনুসন্ধান ও তদন্তকারী কর্মকর্তা এবং গণপূর্ত বিভাগের প্রকৌশলীসহ মোট ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত।
মামলার নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, চট্টগ্রাম নগরীর অভিজাত এলাকা খুলশী আবাসিক এলাকার ১ নম্বর সড়কের ২৪ নম্বর প্লটে অবস্থিত ৪ তলা বাড়ি, ৬ নম্বর সড়কের ৭ তলা অ্যাপার্টমেন্ট এবং লালখান বাজারের ৩৩৫ এম এম আলী রোডে অবস্থিত ১০ তলা বাণিজ্যিক ভবনের জমি ও স্থাপনার সুনির্দিষ্ট মূল্যায়ন প্রতিবেদন তৈরি করে গণপূর্ত বিভাগ। এসব ভৌত প্রমাণ, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের নথি ও সম্পত্তির মূল্যায়ন প্রতিবেদন বিবেচনা করেই আদালত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছান।
সাজাপ্রাপ্ত এই ব্যবসায়ী বর্তমানে আত্মগোপনে থাকায় রায় ঘোষণার পর তাঁর বা তাঁর আইনি প্রতিনিধির কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।