মোঃ আলমগীর হোসাইন হৃদয়, জামালপুর প্রতিনিধি:
যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি করতে গিয়ে নিহত জামিল আহমেদ লিমন (২৭)-এর গ্রামের বাড়ি জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। উপজেলার কড়ইচড়া ইউনিয়নের লালডোবা গ্রামে চলছে শোকের মাতম।
জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের University of South Florida-এর শিক্ষার্থী লিমন গত সপ্তাহ থেকে নিখোঁজ ছিলেন। পরে শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) ফ্লোরিডার Howard Frankland Bridge এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, লিমনের বাবা জহুরুল ইসলাম ১৯৯৪ সালে পরিবারসহ গাজীপুরের মাওনা এলাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। সেখানেই লিমনের বেড়ে ওঠা ও শিক্ষাজীবন সম্পন্ন হয়। তবে গ্রামের বাড়িতে এখনও তার চাচা-চাচীসহ স্বজনরা বসবাস করেন।
লিমনের চাচা মাহবুবুর রহমান বলেন, “নিখোঁজের খবরের পর শুক্রবার রাতে জানতে পারি আমার প্রবাসী ভাতিজা লিমন আর বেঁচে নেই। আমরা চাই দ্রুত তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হোক এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করা হোক।” একই দাবি জানিয়েছেন তার ফুপু আকলিমা আক্তার।
শিক্ষাজীবনে মেধাবী লিমন ২০১৪ সালে মাওনা মডেল হাইস্কুল থেকে এসএসসি এবং ২০১৬ সালে বীরশ্রেষ্ঠ আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। পরবর্তীতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স সম্পন্ন করে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে University of South Florida-এর ভূগোল ও পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগে পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তি হন।
এদিকে, একই বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি-ও প্রায় একই সময়ে নিখোঁজ হন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমনকে সর্বশেষ ১৬ এপ্রিল সকালে ট্যাম্পায় নিজ বাসায় দেখা যায়। অন্যদিকে বৃষ্টিকে ওইদিন সকালেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যাচারাল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস ভবনে শেষবার দেখা গেছে।
সবশেষে বৃষ্টির ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, তার বোন আর বেঁচে নেই। তবে এখনো তার মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
নিহত লিমনের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে তার পরিবার ও এলাকাবাসী।