দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেও এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যে জাতীয় সংসদে সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতেই পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
প্রশ্নোত্তর পর্বে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা জানতে চান, দেশের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা ও জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি থাকা সত্ত্বেও কেন এইচএসসির মতো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা স্থগিত করা হয়নি।
জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কুমিল্লা মহিলা কলেজ কেন্দ্র ছাড়া দেশের অন্যান্য পরীক্ষাকেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) সঙ্গে আলোচনা করে সম্মিলিত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই পরীক্ষা নেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই বলে জানানো হয়েছিল। তবে পরদিন কুমিল্লার একটি কেন্দ্রে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে কেন্দ্র পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি নৌকার মাধ্যমে পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
টানা বৃষ্টিতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা ও বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সব পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। তবে অন্য শিক্ষা বোর্ডগুলোর পরীক্ষা নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী চলছে।
বৈরী আবহাওয়ার কারণে পরীক্ষা কিছুদিন পিছিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিলেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের একটি অংশ। এর মধ্যে সোমবারের ভারী বর্ষণে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলে পরীক্ষার্থীদের দুর্ভোগ বাড়ে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষামন্ত্রীর সমালোচনা তীব্র হয়। মঙ্গলবার রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবরেটরি ও উত্তরায় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভও করেন শিক্ষার্থীরা।
এদিকে পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের প্রশ্নপত্রে ভুলের বিষয়েও সংসদে বক্তব্য দেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি জানান, দ্রুত প্রশ্নপত্র প্রস্তুতের কারণে পদার্থবিজ্ঞানের দুটি প্রশ্নে ত্রুটি হয়েছে।