শনিবার (৩০ আগস্ট) সকালে বোর্ডের সদস্য ও ঢামেকের নিউরো সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান জানান, নুরের মাথায় প্রচণ্ড আঘাত লেগেছে। তাই তাকে এখনই আশঙ্কামুক্ত বলা সম্ভব নয়। তিনি আরও বলেন, নুরের শরীরে সোডিয়ামের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কম। এ অবস্থা চলতে থাকলে তার ঝুঁকি আরও বাড়বে এবং বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হতে পারে।
ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. মোস্তাক আহমেদ জানান, রাতে নুরের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে এবং সকালে সিটিস্ক্যান করা হয়। তাতে দেখা গেছে—তার মাথার হাড়, নাকের হাড় ও ডান চোয়ালের হাড় ভেঙে গেছে। মাথার ভেতরে সামান্য রক্তক্ষরণও হয়েছে। এছাড়া তার চোখ ও মুখ ফুলে গেছে এবং চোখে রক্ত জমেছে। তবে মেডিকেল বোর্ড মনে করছে, আপাতত অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন নেই।
তিনি আরও বলেন, “এখনও নুরকে শঙ্কামুক্ত বলা যাবে না। চিকিৎসক দল তার পরবর্তী চিকিৎসা পরিকল্পনা ঠিক করতে বৈঠক করবেন।”
বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, নুরুল হকের ব্রেনে রক্তক্ষরণ হয়েছে এবং নাকের হাড় ভেঙে গেছে। ডান চোখে তিনি দেখতে পাচ্ছেন না। তিনি কখন স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতে পারবেন, তা এখনই বলা সম্ভব নয়। একইসঙ্গে এ হামলার ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।
এর আগে শুক্রবার (২৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজধানীর বিজয়নগরে জাতীয় পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। রাত ৯টার দিকে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে যায়। এ সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে নুর গুরুতর আহত হন। পরে তার সহযোগীরা রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করেন।