কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগ সমর্থকদের ৪৮ শতাংশ বিএনপিমুখী: জরিপ

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:২৮ অপরাহ্ণ   |   ৪৩ বার পঠিত
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগ সমর্থকদের ৪৮ শতাংশ বিএনপিমুখী: জরিপ

ডেস্ক নিউজ-ঢাকা প্রেস

 

 

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সমর্থকদের প্রায় ৪৮ শতাংশ বিএনপিকে ভোট দিতে পারেন। একই জরিপে উঠে এসেছে, ২০০৮ সালের পর এই প্রথমবার ভোট দিতে যাওয়া নতুন ভোটারদের মধ্যে ৩৭ দশমিক ৪ শতাংশ জামায়াতে ইসলামীর প্রতি সমর্থন জানাতে পারেন।

 

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘আনকাভারিং দ্য পাবলিক পালস’ শীর্ষক জরিপ প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। জরিপটি যৌথভাবে পরিচালনা করেছে কমিউনিকেশন অ্যান্ড রিসার্চ ফাউন্ডেশন (সিআরএফ) এবং বাংলাদেশ ইলেকশন অ্যান্ড পাবলিক ওপিনিয়ন স্টাডিজ। এতে ফলাফল উপস্থাপন করেন সিআরএফের স্ট্র্যাটেজিক কো-অর্ডিনেটর জাকারিয়া পলাশ।

 

জরিপে অংশ নেওয়া ভোটারদের মধ্যে ৯০ শতাংশের বেশি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে প্রায় ৮ শতাংশ ভোটার এখনো সিদ্ধান্তহীন অথবা ভোট না দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

 

ভোটারদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে উঠে এসেছে দুর্নীতি। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৬৭ দশমিক ৩ শতাংশ দুর্নীতিকে প্রধান উদ্বেগের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। পাশাপাশি ৩৫ দশমিক ৯ শতাংশ ভোটার ধর্মকে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

 

বয়স ও লিঙ্গভেদ নির্বিশেষে অধিকাংশ ভোটার এমন নেতৃত্ব প্রত্যাশা করছেন, যিনি সাধারণ মানুষের কথা ভাববেন এবং দৃঢ় ও কার্যকরভাবে দেশ পরিচালনায় সক্ষম হবেন। জরিপে দেখা গেছে, ব্যক্তিগত ক্যারিশমার চেয়ে ভোটাররা সহমর্মিতা, জবাবদিহি ও শাসনক্ষমতাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।

 

রাজনৈতিক তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে টেলিভিশন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে সবচেয়ে প্রভাবশালী উৎস হিসেবে উল্লেখ করেছেন ভোটাররা। জরিপ অনুযায়ী, অধিকাংশ ভোটার একটি মাত্র মাধ্যমের ওপর নির্ভর না করে একাধিক প্ল্যাটফর্ম থেকে তথ্য সংগ্রহ করছেন, যা প্রথাগত ও ডিজিটাল মিডিয়ার সমন্বিত ব্যবহারের প্রবণতা নির্দেশ করে।

 

জরিপে আরও দেখা গেছে, ভোটারদের কাছে রাজনৈতিক দলের চেয়ে প্রার্থী দিন দিন বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্তে তারা প্রার্থীকে গুরুত্ব দেন। এর মধ্যে ৩০ দশমিক ২ শতাংশ ভোটার শুধু প্রার্থীর ভিত্তিতে ভোট দেন, আর ৩৩ দশমিক ২ শতাংশ প্রার্থী ও দল—উভয় বিষয় বিবেচনায় রাখেন।

 

দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নির্বাচিত মোট ১১ হাজার ৩৮ জন ভোটারের ওপর স্তরভিত্তিক দ্বৈবচয়ন পদ্ধতিতে এই জরিপ পরিচালনা করা হয়। ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দুই ধাপে তথ্য সংগ্রহ করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।