৪ মাস ধরে ঔষধ ও চিকিৎসা সামগ্রী থেকে বঞ্চিত লাখ লাখ মানুষ

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১০:৫৬ পূর্বাহ্ণ   |   ৮৬ বার পঠিত
৪ মাস ধরে ঔষধ ও চিকিৎসা সামগ্রী থেকে বঞ্চিত লাখ লাখ মানুষ

আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি:-

 

কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রায় চার মাস ধরে ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহ বন্ধ। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন এ উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ।
 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত উলিপুর উপজেলা। এ উপজেলায় প্রায় ছয় লাখ মানুষের বসবাস। ১৩টি ইউনিয়নে ১১টি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র রয়েছে। এসব কেন্দ্রে দুজন মেডিকেল অফিসারসহ ১১ জন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারের পদ। তবে এরমধ্যে কর্মরত আছেন মাত্র চারজন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিলে অফিসার। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী সংকট। সবমিলিয়ে স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন উপজেলাবাসী।
 

ধামশ্রেণী কুড়ারপার গ্রামের বাসিন্দা আকিলা বেগম (৪৫)। তিনি বলেন, ‘ক্লিনিকে ওষুধ নেই। প্যারাসিটামল, হিস্টাসিন ছাড়া ওষুধ পাওয়া যায় না। আমরা গরিব মানুষ ওষুধ কিনতে পারি না। এজন্য ক্লিনিকে আসি। কিন্তু এখন নাকি ওষুধেরও মঙ্গা (অভাব) পড়েছে।’
 

হাতিয়া অনন্তপুর গ্রামের আব্দুল হাকিম বলেন, ‘জ্বর-সর্দিতে ভুগছি। ডাক্তার দেখিয়ে ওষুধ নিতে এসেছিলাম। এখন শুনছি ওষুধ নাকি নেই।’
 

গুনাইগাছ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার জাহিদুল ইসলাম বলেন, ওষুধ সরবরাহ না থাকায় লোকজনকে ওষুধ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
 

হাতিয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের ভিজিটর উম্মে সালমা। তিনি বলেন, ‘ওষুধ ছাড়া রোগীর পরামর্শ দিতে চাইলে তারা নিতে চান না। ওষুধ না থাকায় জন্মনিরোধ কার্যক্রম প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। এতে জন্মহার বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’
 

উলিপুর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. নুরুল আমিন বলেন, কয়েক মাস ধরে ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহ নেই। জন্মবিরতিকরণ কার্যক্রমে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
 

এ বিষয়ে জানতে জেলা সিভিল সার্জন কর্মকর্তা মঞ্জুর-এ-মুর্শেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।
 

তবে ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. আ ন ম গোলাম মোহাইমেন বলেন, বিষয়টি আমরা অবগত রয়েছি। খুব শিগগির উলিপুর উপজেলা পরিদর্শন করে ওষুধের ব্যবস্থা করা হবে।