ভোটের নিরাপত্তায় আয়রন শিল্ড, দেশজুড়ে ৩৭ হাজার বিজিবি সদস্যের বিশাল বহর

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ ০৩:৫২ অপরাহ্ণ   |   ৪৫ বার পঠিত
ভোটের নিরাপত্তায় আয়রন শিল্ড, দেশজুড়ে ৩৭ হাজার বিজিবি সদস্যের বিশাল বহর

নির্বাচনী ডামাডোলে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা রুখতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে বিজিবি। সংস্থাটির সদর দপ্তর জানিয়েছে কমা আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে সামনে রেখে ৪৯৫টি উপজেলার মধ্যে ৪৮৯টি উপজেলাতেই বিজিবি সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। কেবল ভ্রাম্যমাণ দল নয় কমা বরং স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবেও তারা রণক্ষেত্রে অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করবে। 

বিজিবি প্রধান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী জানিয়েছেন কমা দেশের সীমান্ত সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রেখেই নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করা হচ্ছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী ৬১টি উপজেলায় বিজিবি এককভাবে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে। এছাড়া দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনেই ঝুঁকি ও সংবেদনশীলতা বিবেচনায় বিজিবি সদস্যদের অবস্থান নিশ্চিত করা হয়েছে।

এবারের নির্বাচনে বিজিবি কেবল প্রথাগত টহল নয় কমা বরং আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে কাজ করছে। বিজিবির বিশেষায়িত ডগ স্কোয়াড গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ও স্পর্শকাতর এলাকায় বিস্ফোরক বা নাশকতামূলক দ্রব্য শনাক্তে কাজ করবে।

প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে ড্রোন ও শরীরে ধারণযোগ্য ক্যামেরার মাধ্যমে অপরাধীদের ডিজিটাল নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি কয়েক মিনিটের মধ্যে মোকাবিলা করতে বিশেষ র‍্যাপিড অ্যাকশন টিম প্রস্তুত রয়েছে। 

ভৌগোলিকভাবে দুর্গম এলাকা কিংবা জরুরি কোনো পরিস্থিতিতে দ্রুত বল প্রয়োগ বা উদ্ধার কাজ চালানোর জন্য বিজিবির হেলিকপ্টার ইউনিটকে স্ট্যান্ডবাই রাখা হয়েছে। বিশেষ করে কোনো কেন্দ্রে বড় ধরনের গোলযোগের খবর পাওয়া মাত্রই আকাশপথে কুইক রেসপন্স ফোর্স পৌঁছে যাবে। এছাড়া নির্বাচনী এলাকাগুলোতে উপজেলা ভেদে ২ থেকে ৪ প্লাটুন বিজিবি সদস্য সার্বক্ষণিক টহলে থাকবেন।

বিজিবির পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে কমা তারা একটি সুশৃঙ্খল ও রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ বাহিনী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। প্রিজাইডিং অফিসাররা সহায়তা চাইলে কিংবা কেন্দ্রে জাল ভোট বা সহিংসতার আশঙ্কা দেখা দিলে বিজিবি সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে আইনি হস্তক্ষেপ করবে।

ইতিপূর্বেই বাহিনীর সদস্যদের বিশেষ ব্রিফিং কমা আচরণবিধি এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদান সম্পন্ন করা হয়েছে। বিজিবির নিরাপত্তা মানচিত্রে এক নজরে ৩৭ হাজারেরও বেশি সদস্যের উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে যেখানে মোট ৪৯৫টি উপজেলার মধ্যে ৪৮৯টি উপজেলা কভার করা হয়েছে। 

একক দায়িত্বে থাকা ৬১টি সীমান্ত উপজেলাসহ ৩০০ সংসদীয় আসনেই মোবাইল ও স্ট্যাটিক ফোর্স হিসেবে বিজিবির উপস্থিতি থাকবে। অতিরিক্ত শক্তি হিসেবে হেলিকপ্টার কমা ড্রোন কমা ডগ স্কোয়াড এবং থার্মাল ইমেজিং ডিভাইস ব্যবহার করা হবে।

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার আওতায় বিজিবি সদস্যদের এই মোতায়েন কার্যক্রম আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে। সাধারণ ভোটারদের মনে আস্থা ফেরাতে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাহীন করতে বিজিবির এই কঠোর অবস্থান এখন রাজপথে দৃশ্যমান।