অনলাইন ডেস্ক
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা থেকে নিজেদের সম্পৃক্ততা কমানোর ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর অংশ হিসেবে জাতিসংঘের কয়েকটি অঙ্গসংস্থাসহ মোট ৬৬টি আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এসব সংস্থা অকার্যকর, যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের পরিপন্থী এবং এতে যুক্ত থাকা অর্থ ও সম্পদের অপচয়।
বুধবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জারি করা নির্বাহী আদেশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততাও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
হোয়াইট হাউসের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, ৬৬টি সংস্থার মধ্যে রয়েছে জলবায়ু, শিক্ষা, বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদ দমন, অভিবাসন উন্নয়ন ফোরাম এবং গণতন্ত্র ও নির্বাচনী সহযোগিতামূলক বিভিন্ন সংস্থা। এর মধ্যে জাতিসংঘের নাম সম্বলিত অঙ্গসংস্থার সংখ্যা ১৭টি।
জাতিসংঘের এসব অঙ্গসংস্থার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— ইউএন ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল কাউন্সিল, ইউএন অ্যালায়েন্স অব সিভিলাইজেশনস, ইউএন কলাবোরেটিভ প্রোগ্রাম অন রিডিউসিং এমিশনস ফ্রম ডিফরেস্টেশন অ্যান্ড ফরেস্ট ডিগ্রেডেশন ইন ডেভেলপিং কান্ট্রিস, ইউএন কনফারেন্স অন ট্রেড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, ইউএন ডেমোক্রেসি ফান্ড, ইউএন এনার্জি, ইউএন হিউম্যান সেটেলমেন্টস প্রোগ্রাম, ইউএন ওশেনস, ইউএন পপুলেশন ফান্ড এবং ইউএন ওয়াটার।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব সংস্থা দীর্ঘদিন ধরে অব্যবস্থাপনায় জর্জরিত। অনেক ক্ষেত্রে এমন পক্ষের প্রভাব স্পষ্ট, যারা যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের বিরুদ্ধে নিজেদের এজেন্ডা এগিয়ে নিচ্ছে। ফলে এসব সংস্থা যুক্তরাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও সামগ্রিক সমৃদ্ধির জন্য হুমকি হয়ে উঠেছে বলে দাবি করা হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, এসব সংস্থার পেছনে বিপুল অর্থ ব্যয় আর গ্রহণযোগ্য নয়, কারণ এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র কার্যত কোনো সুফল পাচ্ছে না।
উল্লেখ্য, তালিকাভুক্ত আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মধ্যে ইন্টারন্যাশনাল সোলার অ্যালায়েন্সও রয়েছে। বাংলাদেশ ২০২৩ সালে এ সংস্থার সঙ্গে দেশীয় অংশীদারত্ব চুক্তি স্বাক্ষর করে, যার লক্ষ্য ছিল সৌর শক্তির উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ। চুক্তিটির মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর রয়েছে।