কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ২৭ কিশোরকে গাজীপুরের টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। জেলা শহরসহ বিভিন্ন এলাকায় থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পৃথক অভিযানে তাদের আটক করা হয়। সর্বশেষ রোববার সকালে আরও দুই কিশোরকে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।
কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. শাহ আলম খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল জানায়, গত ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে কুমিল্লা নগরীসহ জেলার ১৮টি থানায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান শুরু হয়। শুক্রবার গভীর রাত পর্যন্ত পাঁচ দিনের অভিযানে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যসহ মাদক ও বিভিন্ন অপরাধে জড়িত দুই সহস্রাধিক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ৮৩৩ জনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে মুচলেকা নিয়ে এক হাজার ২০৯ জনকে অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের অধিকাংশই শিক্ষার্থী।
এদিকে অভিযানের কারণে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দীর সংখ্যা ধারণক্ষমতার দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। দেড় হাজার বন্দীর ধারণক্ষমতার কারাগারটিতে রোববার সকালে বন্দীর সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ৩ হাজার ৫০০ জনে। এতে প্রচণ্ড গরমে বন্দীদের গাদাগাদি করে থাকতে হচ্ছে।
সিনিয়র জেল সুপার মো. শাহ আলম খান বলেন, নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হচ্ছে। কারাগারে চারটি নতুন বহুতল ভবন উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে। ভবনগুলো চালু হলে বন্দীদের আবাসনসংকট অনেকটাই কমবে।
তিনি জানান, চলমান অভিযানে কারাগারে ৫০ জন কিশোর আসে। তাদের মধ্যে যাদের দ্রুত জামিন পাওয়ার সম্ভাবনা নেই, আদালতের নির্দেশে তাদের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে। এ পর্যন্ত ২৭ কিশোরকে টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। অন্যরা জামিনে মুক্তি পেয়েছে।
এর আগে গত ১৮ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ড. নাহিদা বেগমের ছেলে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী অপ্রতিম হত্যার ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের মধ্যে দুই কিশোরকে গত ২১ সেপ্টেম্বর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছিল।