জলবায়ু পরিবর্তনে সবচেয়ে ঝুঁকিতে বাংলাদেশ, বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই: পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ১১ আগu ২০২৬ ০৪:২৩ অপরাহ্ণ   |   ৪৯ বার পঠিত
জলবায়ু পরিবর্তনে সবচেয়ে ঝুঁকিতে বাংলাদেশ, বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই: পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী

ঢাকা প্রতিনিধি :

 

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশে তাপমাত্রা ক্রমেই বাড়ছে এবং দেশটি সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম এমপি। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই।
 

মঙ্গলবার সকালে কেরানীগঞ্জ মডেল উপজেলার নয়াবাজার ডিগ্রি কলেজে আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
 

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বৃক্ষরোপণে সাজাব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে দেশজুড়ে সবুজায়নের কার্যক্রম চলছে। কোথায় কতটি গাছ লাগানো হচ্ছে এবং সেগুলোর যথাযথ পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণ হচ্ছে কি না, তা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তদারকি করা হচ্ছে।
 

তিনি জানান, সম্প্রতি কক্সবাজারে প্রায় ৪০ লাখ গাছ লাগানো হয়েছে, যা একক জেলা হিসেবে সর্বোচ্চ। সেখানে স্থানীয় মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে বৃক্ষরোপণে অংশ নিচ্ছেন। শুধু গাছ লাগানো নয়, সেগুলোর পরিচর্যা ও সংরক্ষণেও স্থানীয়দের সম্পৃক্ত করা হচ্ছে।
 

শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, আগামী পাঁচ বছরে দেশে ২৫ কোটি গাছ রেখে যাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্য পূরণে প্রায় ৩০ থেকে ৩২ কোটি গাছ লাগানোর প্রয়োজন হতে পারে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, পরিচর্যার অভাবসহ বিভিন্ন কারণে কিছু গাছ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই সেসব গাছের জায়গায় নতুন চারা রোপণ করে ঘাটতি পূরণ করা হবে।
 

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ২০২৪ সালের ১৩ জুন বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনের সময় প্রত্যেক নাগরিককে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যাতে নির্মল বাতাসে শ্বাস নিতে পারে, সেই লক্ষ্যেই শিক্ষার্থীদেরও বৃক্ষরোপণে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
 

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ওয়ান চাইল্ড ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি শিশুকে একটি করে গাছ লাগানোর পাশাপাশি সেটির পরিচর্যার দায়িত্ব নিতে উৎসাহিত করা হবে। একটি শিশু যেমন ধীরে ধীরে বেড়ে উঠবে, তার লাগানো গাছটিও তেমনি বড় হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক উদ্যোগ।
 

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব তুলে ধরে তিনি বলেন, তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে মানুষ নানা ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়ছে। বেশি করে গাছ লাগালে স্থানীয়ভাবে তাপমাত্রা কমাতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে বৃষ্টিপাতের অনুকূল পরিবেশ তৈরি এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গাছ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। গাছের সংখ্যা কমে গেলে মানুষের জীবনও হুমকির মুখে পড়তে পারে।
 

পরিবেশ সুরক্ষায় পরিচ্ছন্নতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাস্তাঘাটে টিস্যু ও ময়লা-আবর্জনা না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে হবে। প্রত্যেককে নিজের বাড়ির আঙিনা ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
 

একবার ব্যবহারযোগ্য পাতলা পলিথিনের ব্যবহার কমানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিশেষ করে মুদি দোকান, ফলের দোকান ও কাঁচাবাজারে পলিথিনের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। পলিথিনের ব্যবহার কমানো গেলে জলাবদ্ধতা ও প্লাস্টিক দূষণ—দুটিই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।
 

অনুষ্ঠানে সাবেক মন্ত্রী আমান উল্লাহ আমান এমপি বলেন, সরকার জনগণের কল্যাণে কাজ করছে। একটি শিশু জন্মের সময় তার নামে একটি গাছ লাগানো হলে সেই গাছ ভবিষ্যতে যেমন পরিবেশের উপকার করবে, তেমনি পরিবারের জন্যও উপকারী হয়ে উঠতে পারে।
 

তিনি বলেন, মন্ত্রী-এমপিরা জনগণের সেবক। জনগণের কল্যাণে কাজ করাই তাদের প্রধান দায়িত্ব।
 

অনুষ্ঠানে কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. উমর ফারুক, নয়াবাজার ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল মালেক, কেরানীগঞ্জ মডেল উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. শামীম হাসান, যুগ্ম সম্পাদক মনির হোসেনসহ স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।