ডেস্ক নিউজ-ঢাকা প্রেস
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির তিন প্রভাবশালী প্রার্থী আদালত থেকে স্বস্তির খবর পেয়েছেন। চট্টগ্রাম-৪ আসনের আসলাম চৌধুরী ও চট্টগ্রাম-২ আসনের সারোয়ার আলমগীরের বিষয়ে আপিল বিভাগ এবং ঢাকা-১১ আসনের প্রার্থী ড. এম এ কাইয়ুমের বিষয়ে হাইকোর্ট রায় দিয়েছেন।
চট্টগ্রাম-৪ আসন: আসলাম চৌধুরী
চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গত ১৮ জানুয়ারি আপিল শুনানির শেষ দিনে ঋণখেলাপির অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তার মনোনয়ন বহাল রাখা হয়। সে সময় নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ ঋণ পরিশোধের বিষয়ে সতর্কতাও দেন।
ইসির ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ হাইকোর্টে রিট করলে দীর্ঘ শুনানি শেষে রিট খারিজ হয়। পরে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন জানায়। সবশেষ মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ আদেশ দেন, আসলাম চৌধুরী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। তবে চলমান আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই আসনের ফলাফল চূড়ান্তভাবে প্রকাশ স্থগিত থাকবে।
চট্টগ্রাম-2 আসন: সারোয়ার আলমগীর
চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে বিএনপির প্রার্থী সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বহাল রাখার বিষয়ে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে করা লিভ টু আপিল মঞ্জুর করেছেন আপিল বিভাগ। এর ফলে তার নির্বাচনে অংশগ্রহণে আর কোনো বাধা থাকছে না। তবে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফলাফল প্রকাশ স্থগিত থাকবে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে ঋণখেলাপির অভিযোগে ইসি সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বাতিল করলেও হাইকোর্ট সেই আদেশ স্থগিত করে তাকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেন। এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে জামায়াত প্রার্থী মো. নুরুল আমিন আপিল করেন। উল্লেখ্য, রিটার্নিং কর্মকর্তা প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণার পর তার বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগে আপিল করা হয়েছিল।
ঢাকা-১১ আসন: ড. এম এ কাইয়ুম
ঢাকা-১১ আসনে বিএনপির প্রার্থী ড. এম এ কাইয়ুমের প্রার্থিতার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা রিট সরাসরি খারিজ করেছেন হাইকোর্ট। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের বেঞ্চ এ আদেশ দেন। ফলে আসন্ন নির্বাচনে তার অংশগ্রহণে আর কোনো আইনগত বাধা নেই।
এর আগে সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও ঢাকা-১১ আসনের ১১-দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী নাহিদ ইসলাম রিটটি দায়ের করেন। রিট খারিজের পর তিনি জানান, আপিল বিভাগে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে এবং দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত অভিযোগের কথা উল্লেখ করেন।
তবে ড. এম এ কাইয়ুম ভানুয়াতুর নাগরিকত্ব গ্রহণ ও সেখানে সম্পত্তি থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে এসব অভিযোগকে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।
আদালতের এসব রায়ের ফলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির তিন হেভিওয়েট প্রার্থীর নির্বাচনী মাঠে থাকার পথ আপাতত সুগম হলো।