পটিয়ায় শতবর্ষী মাটির ঘর ধসে, অল্পের জন্য রক্ষা পেল শিক্ষকের পরিবার

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ০৭ অক্টোবর ২০২৬ ০১:৪৩ অপরাহ্ণ   |   ৯৭ বার পঠিত
পটিয়ায় শতবর্ষী মাটির ঘর ধসে, অল্পের জন্য রক্ষা পেল শিক্ষকের পরিবার

আবদুল হাকিম রানা, দক্ষিণ চট্রগ্রাম:


 

চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার কেলিশহর ইউনিয়নে শতবর্ষী একটি মাটির বসতঘর ধসে পড়েছে। মঙ্গলবার ভোরে হঠাৎ বিকট শব্দে ঘরটি ধসে পড়লেও সৌভাগ্যক্রমে ওই সময় ভেতরে কেউ না থাকায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। তবে ঘরটির আসবাবপত্রসহ প্রায় ২০ লাখ টাকার মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কেলিশহর ইউনিয়নের প্রয়াত চিকিৎসক তপন কুমার দের পিতা প্রয়াত ননী গোপাল দে প্রায় একশ বছর আগে ঐতিহ্যবাহী এ মাটির ঘরটি নির্মাণ করেছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে তাদের পরিবার ওই ঘরে বসবাস করে আসছিল। গত প্রায় ৩৫ বছর ধরে কেলিশহর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক রুপন কুমার দে ঘরটি ব্যবহার করে আসছিলেন। পাশাপাশি সেখানে এলাকার শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়ানো এবং পারিবারিক বিভিন্ন কাজও পরিচালনা করতেন তিনি।
 

শিক্ষক রুপন কুমার দে জানান, মঙ্গলবার ভোর ৫টার দিকে হঠাৎ বিকট শব্দে পুরো ঘরটি ধসে পড়ে। ওই সময় ঘরের ভেতরে কেউ না থাকায় পরিবারের সদস্যরা প্রাণে রক্ষা পান। তবে ঘরটির ভেতরে থাকা আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
 

তিনি বলেন, দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে এই ঘরের সঙ্গে তার অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে। এখানে তিনি নিয়মিত শিক্ষার্থীদের পড়াতেন। প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থীকে এই ঘরেই পড়িয়েছেন। হঠাৎ ঘরটি ধসে পড়ায় তিনি হতাশ হয়ে পড়েছেন।
 

স্থানীয়রা জানান, একসময় গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ও স্থাপত্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল মাটির ঘর। আধুনিকতার সঙ্গে এসব ঘর এখন ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে। পুরোনো মাটির ঘরের জায়গায় গড়ে উঠছে পাকা ভবন। ফলে শতবর্ষী এ ঘরটির ধসে পড়াকে স্থানীয়রা একটি ঐতিহ্যের অবসান হিসেবেও দেখছেন।
 

কেলিশহর ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য উত্তম দাশ বলেন, ‘হঠাৎ সকালে ঘরটি ধসে পড়ায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে সৌভাগ্যক্রমে কোনো প্রাণহানি ঘটেনি। ঘরের ভেতরে থাকা বেশ কিছু মালামাল ও আসবাবপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’
 

ঘরটি ধসে পড়ার ঘটনায় শিক্ষক রুপন কুমার দের পরিবার বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয়রা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।