সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) বসবাসরত বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা দেশে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে এ বিনিয়োগের জন্য নির্বিঘ্ন অনুমোদন, জমি ইজারা, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এবং বিনিয়োগের সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সোমবার রাজধানীর পল্টনে অর্থনৈতিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ কমার্শিয়ালি ইম্পর্ট্যান্ট পারসন (সিআইপি) বিজনেস অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা এ বিনিয়োগ পরিকল্পনার কথা জানান।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সদস্য সচিব মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, প্রস্তাবিত বিনিয়োগের আওতায় ডিজিটাল ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ইসলামিক ব্যাংকিং, ড্রাই ফুড প্রসেসিং ও প্যাকেজিং, ই-রেন্টাল সার্ভিস, সৌর প্যানেল ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পর্যটন, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতে বিনিয়োগ করা হবে।
এ সময় ইউএইতে বাংলাদেশি শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের ভিসা জটিলতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা। তারা জানান, প্রায় ১২ বছর ধরে ইউএইতে থাকা বাংলাদেশি শ্রমিকদের নিয়োগকর্তা পরিবর্তনের সুযোগ সীমিত থাকায় অনেকেই চাকরি ও জীবিকা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। এ সমস্যা সমাধানে দুই দেশের সরকারের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন।
সম্প্রতি ভিসা বাতিলের কারণে দেশে ফিরে আটকা পড়া বাংলাদেশিদের বিষয়েও দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানানো হয়। ব্যবসায়ী নেতারা ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে তাদের ইউএইতে ফেরার সুযোগ করে দিতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দেশটির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করার আহ্বান জানান।
এ ছাড়া বাংলাদেশি দূতাবাস ও কনস্যুলেটে দক্ষ ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তা নিয়োগ, ২৪ ঘণ্টার জরুরি হেল্পলাইন চালু, ডিজিটাল অভিযোগ ব্যবস্থাপনা এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রবাসী সহায়তা সেল গঠনের প্রস্তাব দেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে মোট ১৫ দফা দাবি ও প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ভিসা সমস্যার সমাধান, দেশত্যাগের আগে ভাষা ও দক্ষতা প্রশিক্ষণ, প্রবাসী কার্ড চালু, স্থানীয় আইন সম্পর্কে কর্মীদের সচেতন করা, সরকারি খরচে মৃত প্রবাসীদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা, স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বাড়ানো, রেমিট্যান্স প্রণোদনা বৃদ্ধি, বিমান ভাড়া কমানো এবং প্রবাসীদের সম্পদ ও বিনিয়োগের সুরক্ষা জোরদার করা।
এ ছাড়া প্রবাসীদের জন্য ঋণ ও বীমা সুবিধা সহজ করা এবং মধ্যপ্রাচ্যে সংকটের সময় বাংলাদেশিদের জরুরি সহায়তা নিশ্চিত করারও দাবি জানানো হয়।
সংগঠনের আহ্বায়ক মোহাম্মদ রুবেল বলেন, এসব সমস্যা ও প্রস্তাব নিয়ে তারা পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এবং প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এ সময় সরকার দ্রুত সমস্যাগুলো সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে।