সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী রাত ৮টার মধ্যে দোকান বন্ধ করতে গিয়ে বিক্রি কমে আর্থিক সংকটে পড়েছেন রাজধানীর মৌচাক মার্কেটের ব্যবসায়ীরা। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে দোকান খোলা রাখার সময় বাড়িয়ে রাত ১০টা পর্যন্ত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। একই সঙ্গে দোকান খোলা ও বন্ধের নির্দিষ্ট সময়সীমা তুলে দিয়ে ব্যবসায়ীদের নিজেদের সুবিধামতো সময় নির্ধারণের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতারা।
সোমবার (২ নভেম্বর) মৌচাক মার্কেট বণিক সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, দোকান খোলা রাখার সময়সীমা কমিয়ে দেওয়া এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে ব্যবসায়ীদের বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ইতোমধ্যে তিনটি মার্কেট বন্ধ হয়ে গেছে। অন্য মার্কেটগুলোর অবস্থাও ক্রমেই নাজুক হয়ে পড়ছে।
তিনি বলেন, শপিং মলগুলোতে বিক্রি কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ দোকান খোলা রাখার সময় কমিয়ে দেওয়া। দিনের যে সময়ে ক্রেতাদের উপস্থিতি ও কেনাকাটা সবচেয়ে বেশি থাকে, ঠিক সেই সময়েই মার্কেট বন্ধ করতে হচ্ছে। দোকান খোলা রাখার সময় অন্তত আরও এক ঘণ্টা বাড়ানোর বিষয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তবে নির্দিষ্ট সময় বেঁধে না দিয়ে ব্যবসায়ীদের নিজেদের সুবিধা অনুযায়ী দোকান খোলা ও বন্ধের সুযোগ দেওয়া উচিত। এতে ক্রেতারা কেনাকাটার জন্য পর্যাপ্ত সময় পাবেন এবং মার্কেটগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমবে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন মৌচাক মার্কেট বণিক সমিতির সভাপতি মো. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি বলেন, কয়েক বছর আগে মৌচাক মার্কেটকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে আদালতের শর্ত এবং রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) নির্দেশনা অনুসরণ করে দেশের একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় মার্কেটটির সংস্কারকাজ শুরু করেন দোকানমালিকরা। বর্তমানে মার্কেটটি নিরাপদ অবস্থায় রয়েছে এবং সংস্কারকাজের প্রায় ৬০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ব্যবসায়ীদের নিয়মিত ভ্যাট ও ট্যাক্স পরিশোধ করতে হচ্ছে। অথচ প্রান্তিক পর্যায়ের ব্যবসায়ীরা নানা ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছেন। মার্কেটের বর্তমান নাজুক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া না হলে এটি বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না। পাশাপাশি কোনো মার্কেট যাতে দখল হয়ে না যায়, সে বিষয়ে সরকারের কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি। এ সময় চাঁদাবাজি বন্ধ এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নেরও আহ্বান জানান ব্যবসায়ী নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, রাজধানীর বাজারগুলোতে কেনাকাটার সবচেয়ে ব্যস্ত সময় বিকেল ৫টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত। কিন্তু সরকারি নির্দেশনার কারণে রাত ৮টার মধ্যেই দোকান বন্ধ করতে হচ্ছে। ফলে ক্রেতারা প্রয়োজনীয় কেনাকাটার জন্য পর্যাপ্ত সময় পাচ্ছেন না। এতে অনেক ক্রেতা প্রচলিত বাজারের পরিবর্তে অনলাইন কেনাকাটার দিকে ঝুঁকছেন।
ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, দোকান খোলা রাখার সময় কমে যাওয়ায় আয় ও বিক্রি কমলেও দোকানভাড়া, কর্মচারীদের বেতন, সরকারি কর এবং বিদ্যুৎ বিলসহ নিয়মিত ব্যয় অপরিবর্তিত রয়েছে। ফলে এসব ব্যয় নির্বাহ করতে গিয়ে ব্যবসায়ীরা চরম আর্থিক চাপে পড়েছেন। অনেক ব্যবসায়ী ব্যাংকঋণ কিংবা উচ্চ সুদে ধার করা অর্থ দিয়ে ব্যবসা টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন।
তাঁরা আরও জানান, রাত ১০টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখার অনুমতি দেওয়া হলে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন ব্যবসায়ীরা। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী সীমিত পরিসরে আলোকসজ্জা ও শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) ব্যবহার করা হবে।
ব্যবসায়ীদের দাবি, দোকান খোলা রাখার সময়সীমা পুনর্নির্ধারণ করা হলে একদিকে যেমন ব্যবসায়িক কার্যক্রমে গতি ফিরবে, অন্যদিকে ক্রেতারাও স্বাচ্ছন্দ্যে কেনাকাটার সুযোগ পাবেন।