মো: আমিনুল ইসলাম:
তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তন,প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ: তিনটি অগ্রাধিকার ঘোষণা...........
তারেক রহমান বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। দীর্ঘদিন বিদেশে অবস্থানের পর দেশে ফিরে ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-কে নেতৃত্ব দিয়ে নিরঙ্কুশ বিজয় এনে দেন তিনি।
রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম নেওয়া তারেক রহমান ১৯৬৫ সালের ২০ নভেম্বর বগুড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-এর জ্যেষ্ঠ পুত্র। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে শিক্ষালাভের পর তিনি রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হন।
১৯৮৮ সালে বগুড়ায় বিএনপির রাজনীতিতে যোগ দিয়ে তারেক রহমান ধীরে ধীরে দলের গুরুত্বপূর্ণ সংগঠক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এলে তাঁর প্রভাব আরও বৃদ্ধি পায়। তবে “হাওয়া ভবন” কেন্দ্রিক কার্যক্রম ও দুর্নীতির অভিযোগে তিনি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন।
২০০৭ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের অভিযোগের পর ২০০৮ সালে তিনি যুক্তরাজ্যের লন্ডনে চলে যান। সেখানে প্রায় ১৭ বছর অবস্থানের পর ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে দেশে ফেরেন।
মাতা খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর বিএনপির স্থায়ী কমিটি তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে দলের চেয়ারম্যান ঘোষণা করে। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে তাঁর নেতৃত্বে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়লাভ করে এবং তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর মাধ্যমে এক যুগেরও বেশি সময় পর দলটি পুনরায় রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরে আসে।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তারেক রহমান “আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা, আর্থিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা”—এই তিনটিকে অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণা করেছেন। পাশাপাশি শিক্ষা খাতের উন্নয়ন, বেকারত্ব নিরসন এবং ডিজিটাল অর্থনীতির বিকাশে জোর দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে তিনি প্রতিবেশী দেশ ও বৈশ্বিক শক্তিগুলোর সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির এই প্রত্যাবর্তন দেশের রাজনৈতিক ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনে দিয়েছে এবং নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার সূচনা করেছে।