ঢাকা প্রেস,বরগুনা প্রতিনিধি:-
বরগুনার তালতলীতে মাদরাসার এক ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে শিক্ষক ফোরকান হোসাইনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে জুতাপেটা করা হয়, যার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে এবং ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
জানা যায়, প্রায় এক মাস আগে মাদরাসার ১০ বছর বয়সী এক ছাত্রকে বলাৎকার করেন শিক্ষক ফোরকান। এই ঘটনায় ছাত্রটি অসুস্থ হয়ে পড়লে অভিভাবকরা গোপনে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। তবে ঘটনাটি চেপে যাওয়ার চেষ্টা করলেও তা ফাঁস হয়ে যায়। পরে মাদরাসা কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় ইউপি সদস্য মিরাজ হাওলাদারের নেতৃত্বে মাদরাসার ভেতরেই বিচার করা হয় এবং শিক্ষককে জুতাপেটা করা হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন লোক ফোরকানকে মারধর করছেন এবং তিনি চিৎকার করছেন। এই ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর শিক্ষক ফোরকানের বিরুদ্ধে নিন্দার ঝড় ওঠে।
স্থানীয়দের দাবি, ফোরকানের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে, যার মধ্যে বিকৃত যৌনাচারে লিপ্ত থাকার কারণে তার একাধিক স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে গেছেন। তারা মনে করেন, শুধু জুতাপেটা যথেষ্ট নয়; তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। ফোরকানের বিরুদ্ধে এর আগেও এমন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে জরিমানা ও চাকরিচ্যুতি হয়েছে।
মাদরাসা কমিটির সভাপতি মিরাজ হাওলাদার স্বীকার করেন যে, মাদরাসার সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কায় বিষয়টি গোপন রাখা হয়েছিল। তবে ইতোমধ্যে ফোরকানকে পরিচালক পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছে।
তালতলী থানার ওসি মোহাম্মাদ শাহজালাল জানান, এখনও এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।