নিউজ ডেস্ক-ঢাকা প্রেস:
কুমিল্লায় ট্রেন ও বাসের ভয়াবহ সংঘর্ষে ১২ জন নিহতের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত গেটম্যান মো. হেলালকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দায়িত্বে অবহেলার কথা স্বীকার করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে কুমিল্লার বুড়িচং থানাধীন শঙ্খচাইল এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। বুধবার (২৫ মার্চ) আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান র্যাব-১১-এর উপ-অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মো. নাঈম উল হক।
র্যাব জানায়, গ্রেফতারকৃত হেলাল বুড়িচং উপজেলার কালকাপুর ডাকঘরের কোদালিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং ওই রেলক্রসিংয়ে গেটম্যান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। দুর্ঘটনার পর দায়ের করা মামলার তিনি এক নম্বর আসামি।
প্রেস ব্রিফিংয়ে র্যাব কর্মকর্তা জানান, দুর্ঘটনার সময় রাত ৩টা ১০ মিনিটে হেলালের ডিউটি থাকলেও তিনি কর্মস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। কাউকে অবহিত না করে এবং বিকল্প কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি নিয়োগ না দিয়েই তিনি স্থান ত্যাগ করেন। তার এই চরম অবহেলার কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। গ্রেফতারের পর হেলাল নিজেও তার অনুপস্থিতির বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
এ ঘটনায় অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে র্যাব। বিষয়টি নিয়ে রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন। গ্রেফতারকৃত আসামিকে লাকসাম রেলওয়ে থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়াও চলছে।
উল্লেখ্য, গত শনিবার (২১ মার্চ) দিবাগত রাত ৩টা ১০ মিনিটে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড লেভেল ক্রসিংয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দ্রুতগতির একটি মেইল ট্রেন ‘মামুন স্পেশাল’ নামে একটি যাত্রীবাহী বাসকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে প্রায় এক কিলোমিটার পর্যন্ত ঠেলে নিয়ে যায়। এতে বাসটি দুমড়ে-মুচড়ে ঘটনাস্থলেই ১২ জন নিহত এবং অন্তত ২৫ জন গুরুতর আহত হন। ব্যারিকেড খোলা থাকায় বাসচালক ট্রেনের উপস্থিতি টের না পেয়ে রেললাইন পার হওয়ার চেষ্টা করেন।
এ ঘটনায় নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের মা ও দুই শিশুসন্তানসহ কয়েকজনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। সোমবার (২৩ মার্চ) লাকসাম রেলওয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। নিহত এক যাত্রীর খালা শেফালী আক্তার বাদী হয়ে গেটম্যান হেলাল ও ওয়েম্যান মেহেদী হাসানকে আসামি করে মামলা করেন।
নিহতদের পরিবারকে রেলওয়ের পক্ষ থেকে এক লাখ টাকা এবং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।