মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় একজন সংসদ সদস্যের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তদন্তে কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।
বুধবার সচিবালয়ে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ঘটনায় পুলিশের একজন কর্মকর্তার দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ওই কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
রাজনৈতিক পরিচয় প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোনো অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় থাকতেই পারে। তবে অপরাধের ক্ষেত্রে সেই পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হবে না। ইতোমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
মিরপুর-১ নম্বরে মধ্যরাতে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় সরকার বা পুলিশের দায় রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কোনো ঘটনায় সরকার বা পুলিশের দায় তখনই আসে, যখন তারা ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়। ওই ঘটনায় সরকার বা পুলিশের কোনো ব্যর্থতা ছিল না বলেও দাবি করেন তিনি।
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্যাপনে সরকার সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তায় ২৪ ঘণ্টা মনিটরিং ব্যবস্থা থাকবে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, পুলিশ সদর দপ্তর থেকে শুরু করে বিভাগ ও জেলা পর্যায় পর্যন্ত এ মনিটরিং কার্যক্রম চলবে। পাশাপাশি যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা দ্রুত জানাতে জাতীয় টেলিযোগাযোগ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের (এনটিএমসি) একটি অ্যাপ ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী ও মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ অভিযান আরও জোরদার করা হবে। অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় না নিয়ে তাকে অপরাধী হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
চাঁদাবাজদের তালিকা সরকারের কাছে রয়েছে—তথ্য উপদেষ্টার এমন বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, চাঁদাবাজদের তালিকা করা পুলিশের নিয়মিত কাজ। এসব তালিকায় সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী ও মাদক ব্যবসায়ীদের নামও থাকে এবং তালিকাগুলো নিয়মিত হালনাগাদ করা হয়।
তিনি বলেন, নতুন করে তালিকা তৈরির বিষয় নয়; বরং তালিকাভুক্ত অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অপরাধী, সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী ও চাঁদাবাজদের গ্রেপ্তার অব্যাহত রয়েছে এবং এ অভিযান আরও জোরদার করা হবে।