পদত্যাগের গুঞ্জন ও শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনালাপের খবর ভিত্তিহীন: রাষ্ট্রপতি

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ২৩ জুলাই ২০২৬ ০৯:৫২ অপরাহ্ণ   |   ৫০ বার পঠিত
পদত্যাগের গুঞ্জন ও শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনালাপের খবর ভিত্তিহীন: রাষ্ট্রপতি

স্বাস্থ্যগত কারণে ইস্তফার খবর ‘বিব্রতকর’, ইতি টানতে দেশে ফিরছেন রাষ্ট্রপতি


ডেস্ক নিউজ, ঢাকা প্রেস:

 

অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন—সম্প্রতি ছড়িয়ে পরা এমন সংবাদ ও গুঞ্জনকে ‘বিব্রতকর’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি নিজেই। একই সাথে বিদেশে অবস্থানকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগের দাবিকেও সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বানানো বলে উড়িয়ে দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি।


একটি জাতীয় দৈনিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পদত্যাগসংক্রান্ত প্রশ্ন করা হলে রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন সংক্ষেপে বলেন, “দেখতে পাবেন... প্রশ্নটা বিব্রতকর।”


সম্প্রতি লন্ডনে চিকিৎসা নিতে যান রাষ্ট্রপতি। সফরকালে শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর কোনো ফোনালাপ হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “এটা পুরোপুরি ভিত্তিহীন। কারও যদি মাথা খারাপ হয়, সে এ ধরনের কথা বলতে পারে। আমি তখন মৃতপ্রায়, চিকিৎসাধীন ছিলাম। এটা একেবারে ভিত্তিহীন ও বানানো কথা, এটাই বলতে পারি।”


তবে বঙ্গভবন ও একাধিক সূত্র মারফত জানা গেছে, আগামীকাল শুক্রবার (২৪ জুলাই) দুপুর নাগাদ পদত্যাগপত্র পেশ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি। বঙ্গভবনের কয়েকটি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, শারীরিক অসুস্থতার বিষয়টি উল্লেখ করে জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে এই পদত্যাগপত্র পাঠানো হতে পারে। যদিও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি কার্যালয় কিংবা সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।


এদিকে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ সংক্রান্ত সম্ভাব্য পরিস্থিতিতে তৈরি হওয়া সাংবিধানিক শূন্যতা বা প্রক্রিয়া সামাল দিতে জরুরি ভিত্তিতে নিজের বিদেশ সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।


সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ জুলাই চিকিৎসার জন্য ব্যাংকক যান স্পিকার। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আগামী ২৬ জুলাই (রোববার) তাঁর দেশে ফেরার কথা থাকলেও, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সফর সংক্ষিপ্ত করে আগামীকাল শুক্রবারই তিনি দেশে পৌঁছাচ্ছেন।


👉 যা বলছে সংবিধান:

বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ ও দায়িত্ব হস্তান্তরের নিয়ম নিম্নরূপ:

√ ৫০ (৩) অনুচ্ছেদ: রাষ্ট্রপতি চাইলে স্পিকারের উদ্দেশ্যে নিজের স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করতে পারেন।

√ ৫৪ অনুচ্ছেদ:** রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে কিংবা অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে তিনি দায়িত্ব পালনে অক্ষম হলে, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার অস্থায়ী বা ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

√ ১২৩ (১) অনুচ্ছেদ: রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা বাধ্যতামূলক।


অতএব, রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন চূড়ান্তভাবে পদত্যাগ করলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত সংবিধান অনুযায়ী অন্তর্বর্তীকালীন রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্বে আসবেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।