নিজস্ব প্রতিবেদক:
দেশজুড়ে দ্রুত বাড়ছে বেসরকারি কিন্ডারগার্টেন বা কেজি স্কুলের সংখ্যা। পাড়া-মহল্লায় গড়ে ওঠা এসব প্রতিষ্ঠানের ভিড়ে শিক্ষার্থী সংকটে পড়ছে অনেক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, অনেক কিন্ডারগার্টেন সীমিত পরিসরে—ভাড়া করা ভবনের কয়েকটি কক্ষ নিয়ে কার্যক্রম চালাচ্ছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে খেলার মাঠ বা পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার অভাব রয়েছে। তবুও আকর্ষণীয় ইউনিফর্ম, ইংরেজি মাধ্যমে পাঠদান এবং নিবিড় তদারকির ধারণার কারণে অভিভাবকদের একটি বড় অংশ এসব প্রতিষ্ঠানের দিকে ঝুঁকছেন।
অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সরকারি বিদ্যালয়ে পড়াশোনার মান এবং ব্যক্তিগত তদারকি নিয়ে তাদের মধ্যে কিছুটা অনাস্থা রয়েছে। পাশাপাশি কোচিং ও প্রাইভেট টিউশনের ওপর নির্ভরশীলতাও এ প্রবণতাকে প্রভাবিত করছে।
অন্যদিকে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রশিক্ষিত শিক্ষক, উপবৃত্তি এবং অবকাঠামো থাকা সত্ত্বেও অনেক স্থানে শিক্ষার্থী সংখ্যা কমে যাচ্ছে। বিশেষ করে শহরাঞ্চলে একই এলাকায় সরকারি স্কুলে শিক্ষার্থী কম থাকলেও কাছাকাছি কিন্ডারগার্টেনে ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
শিক্ষাবিদরা বলছেন, প্রাথমিক শিক্ষার এই পরিবর্তিত প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদে বৈষম্য তৈরি করতে পারে। তাদের মতে, সরকারি ব্যবস্থার ওপর আস্থা কমে গেলে শিক্ষা ব্যবস্থার ভিত্তি দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এ পরিস্থিতির পেছনে কয়েকটি কারণ কাজ করছে। এর মধ্যে রয়েছে—কিন্ডারগার্টেনগুলোর ওপর পর্যাপ্ত নিয়ন্ত্রণ ও নীতিমালার অভাব, ইংরেজি মাধ্যমে শিক্ষার প্রতি অতিরিক্ত আগ্রহ, এবং সরকারি বিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মধ্যে ব্যক্তিগত যোগাযোগের ঘাটতি।
শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কিন্ডারগার্টেনগুলোর কার্যক্রমে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ এবং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর মানোন্নয়ন নিশ্চিত করা জরুরি। এ জন্য অবকাঠামোর পাশাপাশি শিক্ষার পরিবেশ, পাঠদানের মান এবং অভিভাবকদের আস্থা বৃদ্ধিতে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।