চট্টগ্রাম ব্যুরো
চট্টগ্রাম নগরের কালুরঘাট বিসিক শিল্প এলাকায় প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে গুলি ছুড়ে সশস্ত্র মহড়া দিয়েছে দুর্বৃত্তদের একটি দল। শনিবার দুপুরে পাঁচ সদস্যের ওই দল ‘ইয়ুনেস্কো’ নামে একটি পোশাক কারখানাকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে এলাকা ত্যাগ করলে শিল্পাঞ্চলজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের দাবি, ঘটনাটির সঙ্গে আলোচিত বোরহান বাহিনীর সদস্যরা জড়িত।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে পাঁচজনের একটি দল বিসিক শিল্প এলাকার একটি কারখানার সামনে অবস্থান নেয়। পরে তারা ইয়ুনেস্কো পোশাক কারখানার গেটে গিয়ে নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে। একপর্যায়ে দলের একজন গেটের সামনে থেকে সড়কে নেমে কোমর থেকে পিস্তল বের করে কারখানার দিকে গুলি ছোড়ে। এরপর সে হাত উঁচিয়ে পরপর আরও দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে। গুলি ছুড়তে ছুড়তে তারা শিল্প এলাকা ত্যাগ করে।
ঘটনার একটি সিসিটিভি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ৩৭ সেকেন্ডের ওই ফুটেজে দেখা যায়, গোলাপি টি-শার্ট পরা এক যুবক কারখানার সামনে থেকে সড়কের দিকে এগিয়ে যেতে যেতে গুলি করছে। এ সময় আশপাশে সাধারণ পথচারীদের চলাচলও দেখা যায়। পরে ওই যুবক সড়কে দাঁড়িয়ে কারখানার দিকে অস্ত্র তাক করে আরও গুলি ছোড়ে এবং এলাকা ছাড়ার সময়ও পিস্তল উঁচিয়ে গুলি করতে দেখা যায় তাকে।
এ বিষয়ে চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিন বলেন, বিসিক এলাকায় গুলির ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটতে পারে। তদন্তে কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে। তবে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে কাজ চলছে বলে জানান তিনি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গুলির ঘটনার কিছুক্ষণ পর চান্দগাঁওয়ের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী ও যুবদলের এক নেতাকে মোবাইল ফোনে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। ওই নেতার অভিযোগ, তাকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করা হয়েছে এবং হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিসিক শিল্প এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি এবং বিভিন্ন কারখানার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বোরহান বাহিনীর তৎপরতা রয়েছে। বিশেষ করে ঝুট ব্যবসা কেন্দ্রিক বিরোধকে ঘিরে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলমান। স্থানীয়দের দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে এ শিল্পাঞ্চলে একাধিকবার গুলির ঘটনা ঘটেছে, যা ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়িয়ে তুলেছে।