জীবন বীমা করপোরেশনের রাজশাহী আঞ্চলিক অফিসের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রাহকের টাকা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত উন্নয়ন ম্যানেজার মোকছেদুল হক অন্তত সাত গ্রাহকের ২৯ লাখ ২৮ হাজার ৫২২ টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের দাবি, আরও কয়েকজন গ্রাহকের অর্থ যোগ করলে আত্মসাতের পরিমাণ অর্ধকোটি টাকারও বেশি হতে পারে।
অভিযোগ ওঠার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন ওই কর্মকর্তা। এর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকালে নগরীর সিঅ্যান্ডবি মোড়ে জীবন বীমা করপোরেশনের কার্যালয় ঘেরাও করে মানববন্ধন করেন ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা। এ সময় তারা অভিযোগ করেন, শুরু থেকেই কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে আড়াল করার চেষ্টা করছে।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, মোকছেদুল হক রাজশাহীর প্রধান কার্যালয়ে বসে পেনশন বীমা চালুর নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা গ্রহণ করতেন এবং নিয়মিত ভাউচারও দিতেন। পরে জানা যায়, সেই অর্থের কোনো অংশই গ্রাহকদের বীমা হিসাবে জমা হয়নি।
প্রতারিত গ্রাহকদের মধ্যে তনুশ্রী প্রামাণিক ৩ লাখ ২১ হাজার ৪৮ টাকা, আনন্দ কুমার প্রামাণিক ৪ লাখ ৮৬ হাজার ৫২০ টাকা, প্রতিমা নন্দী ৪ লাখ ৮৬ হাজার ৫২০ টাকা, অসীম কুমার দাস ৪ লাখ ২৩ হাজার ৬৬০ টাকা, মেহেদী হাসান ১ লাখ ৯৮ হাজার ৩০০ টাকা, আশরাফুল ইসলাম ৪ লাখ ৯৫ হাজার ১৩৬ টাকা এবং মনিরুজ্জামান ৫ লাখ ১৭ হাজার ৩৮ টাকা জমা দিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
জানা গেছে, গত মাসে জীবন বীমা করপোরেশন থেকে গ্রাহকদের জানানো হয়, গত তিন বছরে সংশ্লিষ্ট হিসাবগুলোতে কোনো অর্থ জমা হয়নি। এরপরই প্রতারণার বিষয়টি সামনে আসে।
প্রতারিত গ্রাহক ও এনআরবিসি ব্যাংকের রাজশাহীর জোনাল হেড অসীম কুমার দাস বলেন, “আমরা টাকা জমা দেওয়ার পর নিয়মিত ভাউচার পেয়েছি। এখন বলা হচ্ছে সেগুলো নকল। একজন সাধারণ গ্রাহক কীভাবে বুঝবে কোনটি আসল আর কোনটি নকল?” তিনি আরও বলেন, অভিযুক্ত কর্মকর্তা লিখিতভাবে টাকা ফেরতের আশ্বাস দিলেও পরে আত্মগোপনে চলে যান।
আরেক ভুক্তভোগী আনন্দ কুমার প্রামাণিক বলেন, “বছরের পর বছর কষ্টের টাকা জমা দিয়েছি। এখন সব হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছি। প্রতিদিন অফিসে ঘুরছি, কিন্তু টাকা উদ্ধারে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখছি না।”
এ বিষয়ে জীবন বীমা করপোরেশনের রাজশাহী শাখার প্রশাসনিক ম্যানেজার শহিদুল ইসলাম জানান, প্রতারণার অভিযোগ ওঠার পর মোকছেদুল হককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ১০ কর্মদিবসের মধ্যে সমাধান না হলে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। বিষয়টি করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেখছেন বলেও জানান তিনি।