পটিয়ায় আবদুল জব্বারের ‘সূর্যডিম’ তরমুজ চাষে সাফল্য, রপ্তানির সম্ভাবনা

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ১০ অক্টোবর ২০২৬ ০১:৩১ অপরাহ্ণ   |   ৯৭ বার পঠিত
পটিয়ায় আবদুল জব্বারের ‘সূর্যডিম’ তরমুজ চাষে সাফল্য, রপ্তানির সম্ভাবনা

আবদুল হাকিম রানা, দক্ষিণ চট্টগ্রাম:


 

চট্টগ্রামের পটিয়ায় ইউটিউবের বিভিন্ন ভিডিও দেখে নতুন জাতের ‘সূর্যডিম’ তরমুজ চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন কৃষক আবদুল জব্বার। অমৌসুমে প্রবল বর্ষার মধ্যেও আধুনিক পদ্ধতিতে চাষ করে ভালো ফলন পাওয়ায় তিনি এখন বাণিজ্যিকভাবে এ জাতের তরমুজ উৎপাদনের পাশাপাশি ভবিষ্যতে বিদেশে রপ্তানির স্বপ্ন দেখছেন।

 


 

পটিয়া উপজেলার কচুয়াই ইউনিয়নের উত্তর শ্রীমাই গ্রামের বাসিন্দা আবদুল জব্বার বাড়ি থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরের ৪০ শতক জমিতে এ তরমুজ চাষ করেছেন। গত ২৬ জুলাই বীজ বপনের মাত্র এক মাস ২৫ দিনের মধ্যেই তরমুজ বিক্রির উপযোগী হয়ে ওঠে। চাষে তাঁর খরচ হয়েছে প্রায় ৭৫ হাজার টাকা। বর্তমানে প্রতি কেজি ১২০ টাকা দরে তরমুজ বিক্রি করছেন তিনি।
 

আবদুল জব্বার জানান, মাত্র এক সপ্তাহে প্রায় দুই লাখ টাকার তরমুজ বিক্রি করেছেন। পুরো মৌসুমে প্রায় তিন লাখ টাকার তরমুজ বিক্রির আশা করছেন তিনি। স্থানীয় বাজারে চাহিদা ও ক্রেতাদের আগ্রহ থাকায় ভালো লাভের প্রত্যাশা করছেন এ কৃষক।
 

বর্ষা মৌসুমে জমিতে পানি জমে তরমুজ নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এ সমস্যা মোকাবিলায় আবদুল জব্বার ব্যবহার করেছেন মাচা পদ্ধতি। নেটের সাহায্যে তরমুজগুলো মাচা থেকে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। এতে ফল মাটির সংস্পর্শে না থাকায় পচন ও নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কমেছে। পাশাপাশি তরমুজের গুণগত মানও ভালো থাকছে।
 

আবদুল জব্বার বলেন, গত বছর চার শতক জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে ‘সূর্যডিম’ জাতের তরমুজ চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছিলেন। পরে পটিয়া উপজেলা কৃষি বিভাগের পরামর্শ এবং ইউটিউবের বিভিন্ন ভিডিও দেখে চাষাবাদের আধুনিক পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা নিয়ে এবার বড় পরিসরে চাষের উদ্যোগ নেন।
 

তিনি বলেন, “‘সূর্যডিম’ তরমুজের ভেতরের শাঁস লাল ও সুস্বাদু। আকার ও মানের কারণে ক্রেতাদের মধ্যে এ তরমুজ নিয়ে যথেষ্ট আগ্রহ রয়েছে। বর্তমানে খেত থেকেই পাইকারি ও খুচরা ক্রেতারা তরমুজ সংগ্রহ করছেন।”
 

আবদুল জব্বারের উৎপাদিত তরমুজ ইতোমধ্যে পটিয়ার সংসদ সদস্য এনামুল হক এনামসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পরিদর্শন ও স্বাদ গ্রহণ করেছেন। তারা তাঁর উৎপাদন পদ্ধতি ও সফলতার প্রশংসা করেছেন বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
 

এদিকে এ উদ্যোগে আবদুল জব্বারকে ঋণ দিয়ে সহযোগিতা করেছে ইউসিবিএল ব্যাংক পিএলসি, পটিয়া শাখা। ব্যাংকটির কর্মকর্তা ও পটিয়ার কৃষি উদ্যোক্তা বজলুল বারী চৌধুরী বলেন, “পটিয়ায় কৃষকদের বিভিন্ন ফসল উৎপাদনে আমরা ঋণ দিয়ে আসছি। এতদিন হলুদ, আদা ও সবজি চাষিদের ঋণ দেওয়া হলেও এবার আবদুল জব্বারকে পরীক্ষামূলকভাবে ‘সূর্যডিম’ তরমুজ চাষের জন্য ঋণ দেওয়া হয়েছে। তাঁর সফলতা আমাদের আশাবাদী করেছে। ভবিষ্যতে আরও কৃষক এ চাষে আগ্রহী হবেন বলে আমরা আশা করছি।”
 

পটিয়া উপজেলা কৃষি বিভাগের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা দীপেন চৌধুরী বলেন, “কৃষক আবদুল জব্বারকে এ জাতের তরমুজ চাষে আমরা প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়েছি। তাঁর সাফল্য অন্য কৃষকদেরও নতুন জাতের তরমুজ চাষে উৎসাহিত করবে।”
 

পটিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হাবিবুল্লাহ বলেন, “পটিয়ার মাটি তরমুজ, শাক-সবজি ও বিভিন্ন ফল উৎপাদনের জন্য বেশ উপযোগী। কৃষি বিভাগের পরামর্শে আবদুল জব্বার ‘সূর্যডিম’ তরমুজ চাষ করে যে সাফল্য পেয়েছেন, তা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। আরও কৃষক এ চাষে এগিয়ে এলে দেশের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতে বিদেশেও ‘সূর্যডিম’ তরমুজ রপ্তানির সুযোগ তৈরি হতে পারে।”
 

ভালো ফলন ও বাজারে সাড়া পাওয়ায় আগামী মৌসুমে আরও বড় পরিসরে ‘সূর্যডিম’ তরমুজ চাষের পরিকল্পনা রয়েছে আবদুল জব্বারের। তাঁর এই উদ্যোগ পটিয়ার কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।