যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক মেইন গভর্নর ও রিপাবলিকান নেতা পল লেপেজ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতির সমর্থক হলেও এবার নিজের ছেলের শ্বশুরকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের উদ্যোগের বিরোধিতা করেছেন। লেপেজের দাবি, তার ওই স্বজন যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে অবস্থান করছেন এবং তার বৈধ ওয়ার্ক পারমিট রয়েছে।
মেইনের দ্বিতীয় কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে রিপাবলিকান প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছেন লেপেজ। অভিবাসন ও সীমান্তনীতি তার প্রচারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সম্প্রতি অগাস্টায় এক অনুষ্ঠানে তিনি জানান, ফেডারেল অভিবাসন কর্তৃপক্ষ তার ছেলের শ্বশুরকে বহিষ্কারের উদ্যোগ নিয়েছে।
লেপেজ বলেন, ওই ব্যক্তির যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি থাকা উচিত। তার ভাষায়, ‘এটা ঠিক নয়। তার ওয়ার্ক পারমিট আছে। তার এখানে থাকার সুযোগ থাকা উচিত।’ তিনি দাবি করেন, ওই স্বজন এমন একটি দেশের নাগরিক, যেটি ওয়াশিংটনের ‘কিছু মানুষের পছন্দ নয়’। তবে তিনি ওই ব্যক্তির নাম বা কোন দেশের নাগরিক, তা জানাননি।
একই অনুষ্ঠানে লেপেজ বলেন, অভিবাসন কর্তৃপক্ষের উচিত দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা এবং বৈধভাবে কাজের অনুমতিপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের পরিবর্তে গ্যাং সদস্য ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া।
লেপেজের এ মন্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন মেইনে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসনবিরোধী অভিযান নিয়ে বিতর্ক চলছে। চলতি বছরের শুরুতে অঙ্গরাজ্যটিতে অতিরিক্ত ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) এজেন্ট মোতায়েন করা হয়। জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত মেইনে আইসের গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের ৬৮ শতাংশের কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড ছিল না বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
জুলাইয়ে মেইনের বিদফোর্ডে আইসের অভিযানের সময় ২৫ বছর বয়সী কলম্বিয়ান নাগরিক জোহান সেবাস্তিয়ান দুরান গুয়েরো গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনাও অভিবাসন নীতি নিয়ে বিতর্ক আরও বাড়িয়ে দেয়। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, একটি লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান চলাকালে তার গাড়ি থামানোর চেষ্টা করা হলে গাড়িটি পালানোর চেষ্টা করে এবং জননিরাপত্তার আশঙ্কায় আইসের এক কর্মকর্তা গুলি চালান। তবে বিভিন্ন আইনপ্রণেতা ও অভিবাসন অধিকারকর্মী এ ঘটনার তদন্ত ও জবাবদিহির দাবি জানিয়েছেন।
ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই অভিযানে আইস কর্মকর্তারা যে ব্যক্তিকে খুঁজছিলেন, দুরান গুয়েরো তিনি ছিলেন না। তার যুক্তরাষ্ট্রে আইনি অবস্থান নিয়েও সরকারি বক্তব্য ও অন্য পক্ষের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে।
অভিবাসন ইস্যুতে কঠোর অবস্থানের জন্য পরিচিত লেপেজ এর আগে মেইনে ফেডারেল অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিতভাবে কাজ করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এবার নিজের পরিবারের একজন সদস্যকে বহিষ্কারের উদ্যোগের বিষয়ে তার প্রকাশ্য আপত্তি বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এনেছে।